রংপুর প্রতিনিধি || গাইবান্ধা-৩ (পলাশ বাড়ি-সাদুল্ল্যাপুর) স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে বাসে করে গাইবান্ধা ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন তিনি।
পরে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে রংপুর নগরীর মর্ডান মোড় এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে তাজহাট থানা পুলিশ।
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া এই ব্যক্তির নাম আজিজার রহমান (৫৮)। তার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাত গ্রাম ইউনিয়নের খোদা বক্স গ্রামে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী।
তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, “আজিজুর রহমান সারাদিন মর্ডান মোড়ে শুয়ে ছিলেন। ট্রাফিক পুলিশ তাকে দেখে তাজহাট থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) আরাফাত হোসেনকে জানান। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সাদুল্যাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সাদুল্যাপুর থানা থেকে পুলিশ এলে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
আজিজার রহমানের ছেলে আশিকুর রহমান বলেন, “বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মোট ভোটারের ১ শতাংশ জটিলতায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। রাত দশটার দিকে তিনি গাবতলী থেকে বাসে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।”
আশিকুরের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে তার বাবার নম্বর থেকে তাকে ফোন করা হয়। ভোরে তিনি ফোন ব্যাক করলে অন্য ব্যক্তি ধরেন। আশিকুর তার পরিচয় দিলে এবং তার বাবা সংসদ সদস্য প্রার্থী পরিচয় দিলে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করা হয়।
শুক্রবার দুপুর পৌনে দুইটার সময় তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে আড়াই হাজার পাঠানো হয়। কিন্তু বেশি টাকা না দিলে তার বাবাকে মারধর কর হবে, এমনকি মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান আশিকুর।
এদিকে, সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজুর রহমান শুক্রবার রাত আটটায় তাজহাট থানায় সাংবাদিকদের বলেন, “আমি নিউ পিংক বাসের শেষের দিকে বাম পাশের একটি সিটে ছিলাম। পাশের সিটে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের শাহীন নামের একজন বসেছিল। সিরাজগঞ্জে যাত্রাবিরতিতে আমরা বাস থেকে নামলে তখন শাহীন আমাকে ডিম খেতে দেয়। এরপর বাসে উঠে চাদর মুড়ে দিয়ে শুয়ে পড়ি। তারপর আর কিছু বলতে পারি না। এরপর আমাকে কে নামিয়ে দিলো তাও বলতে পারি না।”
আজিজুর রহমান জানান, তিনি এর আগে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।