ক্রাইম রিপোর্টার || টঙ্গীর দত্তপাড়া জমিদার পরিবারের সদস্য প্রয়াত রফিকা খানমের আজীবনের স্বপ্ন ছিলো একটি হাসপাতাল নির্মাণ করে এলকার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান। কিন্তু সে স্বপ্নের হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করে দিলো সজল সরকার, মনির মাতব্বর ও আরফিন রেজা আরিফের সন্ত্রাসী গ্রুপ।
এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি এলাকার কিশোর গ্যাং ও বস্তির নিরীহ মানুষের ছেলেদেরকে দিয়ে একটি ভয়ানক কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী গ্রুপ গড়ে তুলেছে। তাদের চাহিদামত চাঁদা না দিলে ভুক্তভোগীকে অপমান অপদস্থ সহ প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে এলকা ছাড়া করে এই সন্ত্রাসী গ্রুপ।
সজল সরকার, মনির মাতব্বর ও আরফিন রেজা আরিফের চাহিদামত চাঁদা প্রদান না করায় তাদের পালিত কিশোর গ্যাং দত্তপাড়া এরশাদ নগরের প্রয়াত রফিকা খানমের ওয়ারিশ সৈয়দ ওমর হোসেনের পরিবারকে দুনিয়া থেকে চিরতরে শেষ করে দেওয়াসহ খুনের হুমকি দিচ্ছে। তাদের চাঁদা দাবী ও বাধার কারণে জমিদার পরিবারের প্রয়াত রফিকা খানমের আজীবনের স্বপ্ন দত্তপাড়া ফ্রী কমিউনিটি হাসপাতালের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এই মহৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে গেলে মনির ও অরিফ মাতব্বর বিশাল অংকের চাঁদা দাবী করে। তাদের চাহিদাকৃত চাঁদা প্রদানে অস্বীকার করায় ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম গ্যাং লিডার হিসেবে তদন্তে উঠে এসেছে সজল সরকারের নাম। স্থানীয়দের মতে মনির মাতব্বর যে কোন বড় ধরনের জমি দখল বা চাঁদাবাজীর পরিকল্পনা করেন সজল সরকারের পরামর্শে। সজল সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ২৫০ সদস্যের একটি দুর্ধষ কিশোর গ্যাং টঙ্গী দত্তপাড়া এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে এলাকাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছ। টঙ্গী দত্তপাড়া এলাকায় বসবাসকারীরা এই সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে সবসময় ভয় ও অতঙ্কের মাঝে দিন যাপন করছে।
রাজনৈতিক নেতাদের নাম ও পদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসনকে চাপের মধ্যে রেখে তারা এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখল করে যাচ্ছে। যার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।
মাতব্বর বাড়ির এই অপরাধ সাম্রাজ্যের প্রধান ঘাতক হিসেবে নাম এসেছে টঙ্গীর শীর্ষ সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবিরের ‘হুমায়ুন বাহিনীর’। দত্তপাড়ায় মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল সাপ্লাই, নির্মাণাধীন ভবনে হত্যাকান্ড সবই ‘হুমায়ুন বাহিনীর’ কাজ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দত্তপাড়ার নৃশংস হত্যাকান্ডের অন্যতম প্রধান আসামী হুমায়ুন জামিনে বেরিয়ে এসে মাতব্বরদের ছত্রছায়ায় পুনরায় এলকায় ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করে বসবাসে ভয়ভীতির মধ্যে রেখেছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবী অবিলম্বে সজল সরকার, মনির মাতব্বর, আরফিন রেজা আরিফ ও হুমায়ুন বাহিনী সহ দত্তপাড়ার সন্ত্রাসী গ্রুপকে গ্রেফতার পূর্বক তাদের অবৈধ সম্পদের উৎস সম্পর্কে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা জরুরী হয়ে পড়েছে।