তানভীর আহমেদ || বাজারে শীতকালীন সবজি পুরোদমে আসলে দাম কমেছে না। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কিছু কিছু সবজির দাম পাঁচ থেকে সাত টাকা বেড়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর শনির আখড়া, ফকিরাপুল বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে এখন শীতকালীন সবজি পুরোদমে চলছে আসছে। কিন্তু দাম কমছে না। এর অন্যতম কারণ পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখন বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। সিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা, দেশি শশা ৯০ থেকে ১০০টাকা, করলা ১০০ টাকা, গাজর (দেশি) ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, কাঁচমরিচ ১৫০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং জলপাই ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কমেছে মুরগির দাম
বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কমেছে মুরগির দাম। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০টাকায়।
স্বাভাবিক মাছের দাম
মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মাছের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে চাষের মাছের সরবরাহ বাড়ার কারণে কিছু কিছু মাছের দাম কমেছে। বিক্রেতাদের দাবি সামনে আরো মাছের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সপ্তাহে বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, মাঝারি আকারের তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ২০০ থেকে ২৫০, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ও ইলিশ ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ১২০০ থেকে ১৩০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ সপ্তাহে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। রসুন (দেশি) ১০০ টাকা ও আদা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা-বিক্রেতারা যা বললেন
রাজধানীর শনির আখড়া কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাকিব হাসান দৈনিক প্রথম ডাককে বলেন, “এখনো যদি কাঁচা সবজির দাম এত বেশি থাকে তাহলে আর দাম কবে কমবে। গত বছর এই সময়ে সবজির দাম অনেক কম ছিল। এখনই সরকারের উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।”
ফকিরাপুল কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আখতারুজ্জামান দৈনিক প্রথম ডাককে বলেন, “আমরাও বুঝতে পারছি না এ বছর এই সময়ে এসে দাম এত বাড়তি কেন? দাম বাড়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত নেই। তবে আশা করছি আগামী মাসে কাঁচা সবজির দাম কমে আসবে।”