1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Golam Saroar : Golam Saroar
আজ শত্রুমুক্ত ফেনীতে প্রথম উড়েছিল লাল সবুজের পতাকা - দৈনিক প্রথম ডাক
রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

আজ শত্রুমুক্ত ফেনীতে প্রথম উড়েছিল লাল সবুজের পতাকা

ফেনী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার দেখা হয়েছে

ফেনী প্রতিনিধি || আজ ৬ ডিসেম্বর, ফেনী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে শত্রুমুক্ত হয় ফেনী। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর স্বাধীনতার প্রতীক লাল সবুজের পতাকা প্রথমবারের মতো ফেনীর আকাশে ওড়ে।

ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে ফেনীতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শহিদ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন বিজয়ের মুহূর্ত।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোর থেকেই সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা ফেনীর পূর্বাঞ্চল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের নেতৃত্বে ফেনী শহরে প্রবেশ করতে থাকে। পরে শহরের রাজাঝির দীঘির পাড়ে ডাকবাংলোর সামনে ফেনীতে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে জড়ো হওয়া মুক্তিসেনারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন।

এ সময় সাধারণ মানুষও মিছিল দেখে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন। বিকেল নাগাদ সেখানে বিএলএফ কমান্ডার জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে যুক্ত হন আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা। এ সময় ‘ফেনীর রাজা’খ্যাত খাজা আহম্মদ সব মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়তে আহ্বান জানিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের লক্ষণ দেখে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকবাহিনী আর তাদের দোসরেরা চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। এভাবেই দীর্ঘ নয় মাসের বজ্রকঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিকামীরা লাল-সবুজের পতাকা ফেনীর আকাশে ওড়ান।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য ফেনীর ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করা হয়। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চারজন বীর উত্তম, সাতজন বীর বিক্রম এবং ২০ জন বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।

সেদিনের বিবরণ দিতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব বলেন, ‘‘মুক্তিযোদ্ধারা সকালেই ফুলগাজীর বন্দুয়া থেকে এসে ফেনী সার্কিট হাউজে (বর্তমান ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেস্ট হাউজ) স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। বিকালের মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক জয়নাল আবেদীন ভিপির নেতৃত্বে মুজিববাহিনী রাজাপুর, কোরাইশ মুন্সী ও সোনাগাজীর নবাবপুর থেকে ট্রাংক রোডে চলে আসেন। সন্ধ্যায় সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সমাবেশ করেন।’’

রণাঙ্গনের এ যোদ্ধা আরও বলেন, ‘‘একটি স্বাধীন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা জীবন বাজি রেখে এ দেশকে শত্রুমুক্ত করেছি। আফসোস স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী অতিবাহিত হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এখনও বিনির্মান হয়নি। আমাদের অনেক পরে ভিয়েতনাম স্বাধীন হয়েছে। ভিয়েতনাম কোথায় আর আমরা কোথায়? আমার বিশ্বাস এখনও তরুণ প্রজন্ম চাইলে এ দেশকে মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এ জন্য সবার আগে দেশপ্রেমকে প্রাধান্য দিতে হবে।’’

মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘‘ডিসেম্বরের শুরুতেই গেরিলা যুদ্ধের নীতি ‘হিট অ্যান্ড রান’ প্রয়োগ করে যুদ্ধ করতে করতে আমরা পাঁচগাছিয়া এলাকার কাছাকাছি চলে আসি। রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এদিকে এসে হিট (হামলা) করে আবার চলে যাই। ৫ ডিসেম্বর আমরা ঠিক ফেনীর কাছাকাছি যখন আসি তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রণভঙ্গ দিয়ে শেষ রাতের দিকে শুভপুর ও বারইয়ারহাট হয়ে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।’’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT