1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Golam Saroar : Golam Saroar
ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ট্রাম্প প্রশাসন - দৈনিক প্রথম ডাক
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর দেশটিতে তেল উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে এ সপ্তাহেই বৈঠকের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক আগে ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন জ্বালানি কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে আবারো বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সক্রিয় করার লক্ষ্য রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের।

শিল্পসংশ্লিষ্ট চারজন নির্বাহী রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, মাদুরো অপসারিত হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বড় তেল কোম্পানি এক্সন মবিল, কনোকোফিলিপস এবং শেভরন- এখনো প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসেনি। এটি ট্রাম্পের গত সপ্তাহের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে মাদুরোকে আটক করার আগে এবং পরে তিনি ইতিমধ্যে ‘সব’ মার্কিন তেল কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে সূত্রটি সোমবার (৫ জানুয়ারি) রয়টার্সকে জানায়, ‘এই তিনটি কোম্পানির কেউ এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মাদুরো অপসারণের আগে বা পরে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি।”

আগামীদিনের এই বৈঠকগুলো ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভেনেজুয়েলা ওপেক এর সাবেক সদস্য এবং বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুতের অধিকারী। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই লক্ষ্য অর্জন করতে কয়েক বছর সময় এবং শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

আগামী বৈঠকগুলোতে কোন কোন নির্বাহী উপস্থিত থাকবেন এবং কোম্পানিগুলো আলাদাভাবে নাকি সম্মিলিতভাবে অংশ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে মন্তব্য করেনি, তবে তারা বিশ্বাস করে যে মার্কিন তেল শিল্প ভেনেজুয়েলায় পুনরায় কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, “আমাদের সব তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক এবং প্রস্তুত। তারা মাদুরো সরকারের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন করবে।”

এক্সন, শেভরন এবং কনোকোফিলিপস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে সক্ষম করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তেল কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দিতে পারে। সামরিক অভিযানের আগে কোম্পানিগুলোকে অবহিত করা হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না। তবে আমরা ‘যদি আমরা এটা করি, তবে কী হবে’- এমন ধারণাগত বিষয়ে কথা বলছিলাম।”

ট্রাম্প আরো যোগ করেন, “তেল কোম্পানিগুলো ভালোভাবেই জানত যে আমরা কিছু একটা করার কথা ভাবছি। কিন্তু আমরা তাদের বলিনি যে আমরা ঠিক কী করতে যাচ্ছি।” শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি বলে তিনি জানান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই তিন কোম্পানির নির্বাহীরা আগামী বৃহস্পতিবার মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

তবে রয়টার্সকে একজন নির্বাহী জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো হোয়াইট হাউজের সঙ্গে দলগতভাবে ভেনেজুয়েলা নিয়ে আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করতে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য আইনের কথা বলেন।

গত শনিবার মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে একটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে এবং মাদকপাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে।

মাদুরোকে আটক করার কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। গত দুই দশকে অব্যবস্থাপনা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন পূর্বের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।

তবে শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনাগুলো অবকাঠামোর অভাব, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন নীতির অস্পষ্টতার কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে কেবল শেভরন ভেনেজুয়েলায় তাদের কার্যক্রম বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, ২০০৭ সালে জাতীয়করণের পর এক্সন এবং কনোকোফিলিপস দেশটি ছেড়ে চলে গিয়েছিল এবং এখনো ভেনেজুয়েলার কাছে শত শত কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

মাদুরো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করলে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ‘অবৈধ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে গণ্য করে আসছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT