1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Golam Saroar : Golam Saroar
ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নিশানায় থাকতে পারে যেসব দেশ - দৈনিক প্রথম ডাক
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নিশানায় থাকতে পারে যেসব দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে তার দেওয়া হুমকিগুলো বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নজিরবিহীন এক সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছে মার্কিন বাহিনী।

এই অভিযানকে ন্যায্যতা দিতে ট্রাম্প ১৮২৩ সালের ‘মনরো’ নীতি ও পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের প্রতিশ্রুতিকে নতুন করে সামনে এনেছেন, যার নতুন নাম তিনি দিয়েছেন ‘ডনরো’ নীতি।

ওয়াশিংটনের প্রভাব বলয়ে থাকা অন্যান্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যে ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে তা এখানে তুলে ধরা হলো।

গ্রিনল্যান্ড
গ্রিনল্যান্ডে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, কিন্তু ট্রাম্প পুরো দ্বীপটিই নিজের নিয়ন্ত্রণে চান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রয়োজনে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।” ট্রাম্পের দাবি, ওই অঞ্চলটি এখন ‘রুশ এবং চীনা জাহাজে ছেয়ে গেছে।’

ডেনমার্কের এই বিশাল সুমেরু দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। এটি বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই খনিজ উৎপাদনে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে।

এছাড়া গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান উত্তর আটলান্টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে সেখানে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আর কোনো চাপ বা দখলের কল্পনা নয়। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে যথাযথ মাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।”

গ্রিনল্যান্ড দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সদস্য দেশ ডেনমার্কের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলবে, যা পশ্চিমা এই সামরিক জোটকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

কলম্বিয়া
ভেনেজুয়েলায় অভিযানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে বলেছেন, তিনি যেন ‘সাবধানে থাকেন’।

ভেনেজুয়েলার পশ্চিম প্রতিবেশী কলম্বিয়া তেলের বিশাল মজুত ছাড়াও সোনা, রুপা, পান্না, প্ল্যাটিনাম ও কয়লার প্রধান উৎপাদক। এছাড়া দেশটি এই অঞ্চলের মাদক ব্যবসার (বিশেষ করে কোকেন) অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক বহনের অভিযোগে কোনো প্রমাণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের নৌকা জব্দের ঘটনার পর থেকে দেশটির বামপন্থি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দাবি করে যে, তিনি মাদক কার্টেলগুলোকে ‘ফুলেফেঁপে উঠতে’ সাহায্য করছেন।

গত শনিবার এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে ট্রাম্প বলেন, “কলম্বিয়া এমন একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তির’ মাধ্যমে শাসিত হচ্ছে, যিনি কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।” ট্রাম্প আরো বলেন, তিনি (কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট) আর বেশিদিন এটা করতে পারবেন না।” কলম্বিয়ায় কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্পের উত্তর ছিল, “এটা আমার কাছে ভালো আইডিয়াই মনে হচ্ছে।”

ইরান
ইরানে বর্তমানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ চলছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভে যদি আরো মানুষের মৃত্যু হয় তাহলে দেশটির সরকারকে ‘চরম মূল্য দিতে হবে’।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যদি তারা আগের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ওপর বিশাল আঘাত আসবে।”

যদিও ইরান ‘ডনরো’ নীতির ভৌগোলিক সীমানার বাইরে, তবুও গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ট্রাম্প বারবার দেশটির শাসনব্যবস্থাকে হুমকির মুখে রেখেছেন। ইসরায়েল ও ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

মেক্সিকো
২০১৬ সালে ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পেছনে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বড় ভূমিকা রেখেছিল। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, মেক্সিকো মাদক বা অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি মেক্সিকোর কার্টেল দমনে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাম তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কিউবা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি ১৯৬০-এর দশক থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে। ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকার কিউবার তেলের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করত। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় কিউবা এখন চরম সংকটে পড়তে পারে।

ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন কিউবায় সামরিক অভিযানের প্রয়োজন নেই, কারণ দেশটি এমনিতেই এখন ‘পতনের মুখে রয়েছে’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “কিউবার এখন আর কোনো আয় নেই। তারা ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি কিউবান অভিবাসী পরিবারের সন্তান, দীর্ঘদিন থেকেই কিউবায় শাসন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন কিছু বলেন, তখন তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT