1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Golam Saroar : Golam Saroar
১৯ মাস বেতন ছাড়াই সেবা: ‘বকেয়া মিলবে না’ বললেন ঠিকাদার - দৈনিক প্রথম ডাক
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

১৯ মাস বেতন ছাড়াই সেবা: ‘বকেয়া মিলবে না’ বললেন ঠিকাদার

ফেনী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দপ্তর ছেড়ে সরে যান।

ফেনী প্রতিনিধি || ১৯ মাস ধরে বেতন–ভাতা বন্ধ। তবুও প্রতিদিন নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ৫৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী। সম্প্রতি নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ‘পূর্বের ১৯ মাসের বকেয়া আর পাওয়া যাবে না, চলতি জানুয়ারি থেকে নতুনভাবে বেতন দেওয়া হবে।’ এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কর্মচারীরা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন কর্মচারীরা। এসময় বেতনহীন কর্মচারীদের চিৎকার ও কান্নায় আশেপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দপ্তর ছেড়ে সরে যান।

কর্মচারীরা জানান, সরকারিভাবে নির্ধারিত মাসিক বেতন ২১ হাজার ৫৫০ টাকা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ৮ হাজার টাকা করে প্রদান করত, তাও ছিল অনিয়মিত। পরে হাসপাতালের চাহিদা অনুযায়ী আরো ২৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা এক টাকাও বেতন পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ১০–২০ টাকা করে নিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাতে হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, প্রধান হিসাব সহকারী মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে বকেয়া বেতনের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

২০০২ সালে আড়াই হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করা কর্মচারী ঝর্ণা রক্ষিত বলেন, “২৩ বছর কাজ করেও চাকরি স্থায়ী হয়নি। ১১ মাস ধরে বেতন নাই। এখন আবার শুনছি চাকরিই থাকবে না- মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”

আরেক কর্মচারী আবদুর রহিম বলেন, “এতদিন বলেছে নতুন ঠিকাদার এলে বকেয়া বেতন দেবে। সেই আশায় কাজ করেছি। এখন বলছে শুধু জানুয়ারির বেতন দেবে! আমরা বলেছি আগে ১৯ মাসের বেতন দেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।”

পরিচ্ছন্নতাকর্মী কুলসুম বলেন, “১৯ মাস বেতন নাই। ছেলের মাদরাসার খরচ দিতে পারি না। যে হাতে ভাত খাই, সেই হাতেই হাসপাতালের ময়লা পরিষ্কার করি, তবুও আমাদের এ অবস্থা।”

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের প্রধান হিসাব সহকারী মোশাররফ হোসেন বলেন, “আগের ঠিকাদার চলে যাওয়ায় মূলত তারা বেতন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করতে না বললেও তারা স্বেচ্ছায় কাজ চালিয়ে গেছেন বেতন পাবার আসায়। যেহেতু নতুন ঠিকাদার শুধুমাত্র এ অর্থবছরের জনবলের টাকা পাবেন, সেহেতু তারা বকেয়া বেতন পাবেন না।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের ঠিকাদার বর্তমানে পলাতক। সে কারণে ১৯ মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। আইন অনুযায়ী নতুন ঠিকাদারের পক্ষে পুরনো বকেয়া পরিশোধের সুযোগ নেই।”

বেতন না পেয়ে এবং চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কর্মচারীরা এখন দিশেহারা। সচেতন মহলের আশঙ্কা সমস্যার সমাধান না হলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT