ফেনী প্রতিনিধি || দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণের অভিযোগ তুলে মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করেছেন একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক দৈনিক প্রথম ডাককে এই তথ্য দিয়েছেন।
ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, “রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে স্থাপিত আপিল বুথে আবেদন জমা দিয়েছি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের আগেও এ নিয়ে আমরা কথা বলেছিলাম। কিন্তু জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। তারপর থেকে গণমাধ্যমেও বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ, “রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তথ্যে তিনি ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পরবর্তী ১৫ ডিসেম্বরও মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে ফিরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেজন্য প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে এই আবেদন করেছি।”
৪ জানুয়ারি নিজ কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন ফেনীর রিটার্নিং কর্মকর্তা। ওইদিন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জানতে চান ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর রহিম।
এ প্রসঙ্গে মনোনয়ন যাচাইয়ের দিন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেছিলেন, “আবদুল আউয়াল মিন্টুর পূর্বে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় লিখেছেন। প্রমাণ হিসেবে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য মার্কিন দূতাবাসে আবেদন করার তথ্য দাখিল করেছেন।”
“সেক্ষেত্রে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় যেটি বলা আছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে এ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন বলে গণ্য হবে না। সেই হিসেবে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে,” বলেছিলেন মনিরা হক।
আপিল আবেদনের শুনানি হবে আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এটি হবে। প্রতিদিন গড়ে ৭০টি করে আপিল আবেদনের শুনানি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কমিশন।