1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Golam Saroar : Golam Saroar
১৭ মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫ খুন, মামলা দায়ের ৪৯টি - দৈনিক প্রথম ডাক
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

১৭ মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৫ খুন, মামলা দায়ের ৪৯টি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে
খুনের তদন্তে পুলিশ। ফাইল ফটো

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি || জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ১৭ মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৫৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। কয়েকটি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদকের সহজলভ্যতা এবং তুচ্ছ ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাই অস্থিরতার মূল কারণ। পাশাপাশি এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার ও জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষ প্রাণহানির অন্যতম কারণ।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট ভোলাহাটে ডাকাত সন্দেহে সানোয়ার নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিন নাচোলে ইসমাইল হোসেন নামে এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার হয়, যাকে প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যা করেছে বলে ধারণা পুলিশের। ১০ আগস্ট শিবগঞ্জে রায়হান আলী নামে এক যুবককে গলাকেটে হত্যা করা হয়, যার নেপথ্যে মোটরসাইকেল ছিনতাই ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ ছিল।

২৭ আগস্ট একই উপজেলায় নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ৪ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মঈনুদ্দিন নামের এক ব্যক্তির লাঠির আঘাতে প্রাণ হারান রাজমিস্ত্রি বাদল আলী।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভোলাহাটে পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা ইসমাইল হোসেন নিহত হন। ১০ অক্টোবর সদর উপজেলায় মাদকাসক্ত মিজানুর রহমান মিজু এক ইমামের ওপর হামলা চালালে স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দেয়, এ ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। ৩০ অক্টোবর ভোলাহাটে আবারো গণপিটুনির ঘটনা ঘটে, যেখানে ডাকাত সন্দেহে জাহাঙ্গীর ও ইয়াকুব আলী নামে দুই ভাই প্রাণ হারান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়

নভেম্বরের মাঝামাঝি শিবগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন জামাতার শাবলের আঘাতে নিহত হন শাশুড়ি সাকিনা বেগম। ২০ নভেম্বর গোমস্তাপুরে খাস জমি দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুস সাত্তার ও তোফাজ্জল হোসেন নামে দুইজন নিহত হন এবং ১৪ জন আহত হন।

২০২৪ সালের শেষ দিকে ১৮ ডিসেম্বর নাচোলে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মাসুদ ও রায়হান নামের দুই কিশোর প্রাণ হারায়।

২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি নাচোলে খাস জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষে আহত তরিকুল ইসলাম বকুল নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৯ জুন গোমস্তাপুরে শিশুদের ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে বাশেদ আলী বিশু নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। জুন মাসে শিবগঞ্জে ঘাস কাটা ও জমি নিয়ে বিরোধে মাসুদ রানা, রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামসহ তিনজন নিহত হন।

২৩ জুন নাচোলে রাজু আহমেদ নামে এক ভ্যানচালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়। ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা পুলিশের।

৫ জুলাই জমি নিয়ে বিরোধে নিজ ভাইদের হাতে খুন হন শুকরানি বেগম। ৯ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর হাট বাঘাইরপাড়া এলাকায় পরিবারের হাতে প্রাণ হারান মাহাবুবুল ইসলাম বাবু নামে এক মাদকাসক্ত যুবক। ১৮ আগস্ট গোমস্তাপুরের আমবাগান থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২২ আগস্ট নাচোলে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে মারা যান আঁখি রাণী।

একই বছরের ১৫ অক্টোবর নাচোলে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত মিলন ও আলম নামে দুই ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর মাঠের একটি পুকুর পাড়ে ২৯ নভেম্বর রাতে মো. তোজ্জামেল হক নামে এক বৃদ্ধ নৈশ্যপ্রহরীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বছরের শেষ দিকে ৮ ডিসেম্বর সদরের ইসলামপুরে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মোশারফ হোসেন নামে এক যুবক নিহত হন। একই দিন রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা বাবুপুর মোড়ে নয়ন নামে এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত করতে এবং হত্যাকাণ্ড রোধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী মো. সাইফুল ইসলাম রেজা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাদের সম্বন্বিতভবে কাজ করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তির আওতায় আনতে হবে। কিছু-কিছু ঘটনায় দেখা যায়, আদালতে চার্জশিট দাখিলে বিলম্ব করে পুলিশ। ফলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিলে হত্যার মতো অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।’

গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, “কাউকে হত্যার অধিকার কোনো সাধারণ মানুষের নেই। এমনকি একজন খুনিকেও যদি উত্তেজিত জনতা আইন বহির্ভূতভাবে হত্যা করে, তবে সেটিও একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “৫৫টি হত্যাকাণ্ডের বিপরীতে ৪৯টি মামলা হয়েছে। পুলিশ অধিকাংশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে।” অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা আরো জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT