মো: নজরুল ইসলাম || নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ৪নং বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন ইউপি সদস্যকে অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) কামরুল হাসানসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) নোয়াখালীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ০৬ নম্বর আমলী আদালত বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) কামরুল হাসান (৩২), ভাবৈয়াপাড়া গ্রামের সুয়া মিয়ার ছেলে নুর হোসেন (৩০) এবং মিয়াপুর গ্রামের মফিজ উল্যার ছেলে মাসুদ রানা (৪২)-কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার অপর চার আসামিকে জামিন প্রদান করেন আদালত।
মামলার বাদী ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু জাহিদ স্বপন। আদালতে দায়ের করা অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউপি সচিব কামরুল হাসান ফোনে তাকে ও অন্যান্য ইউপি সদস্যকে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান।
অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন বিকেল আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে ইউএনও কার্যালয়ের গেটে পৌঁছামাত্র আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে আবু জাহিদ স্বপন, ইউপি সদস্য ইকবাল মাহমুদ ফরেন্স এবং পলাশ ভূইয়াকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইকবাল মাহমুদ ফরেন্সকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপর দুই ইউপি সদস্যকে বিভিন্ন জনমানবহীন স্থানে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।
বাদীর অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অপহরণের সময় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পেছনে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সরাসরি ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আবু জাহিদ স্বপন আদালতে সিআর মামলা নং ০৫/২৫ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নোয়াখালী জেলা মামলাটির তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে আটজনের বিরুদ্ধে অপহরণ, অবৈধ আটক, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক সত্যতা পায়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরবর্তীতে আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালতে হাজির হলে সাত আসামির মধ্যে চারজন জামিন পান এবং তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।