1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Golam Saroar : Golam Saroar
বিশ্বকাপগামীদের ঝালিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ - দৈনিক প্রথম ডাক
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপগামীদের ঝালিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ

খেলাধুলা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

খেলাধুলা প্রতিবেদক || টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাপের দল শুরুর সময়ই দিয়ে দিতে হয়েছিল নির্বাচকদের। যদি বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনতায় দিতে হতো, তাহলে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে একাধিক পরিবর্তন আনতেন নির্বাচকরা। কেন? উত্তরটা পরিস্কার। এক নির্বাচক বলছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপ যারা খেলতে যাবে তাদের পারফরম্যান্সের তো বেহাল দশা। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে আমরা একাধিক ক্রিকেটারকেই সরিয়ে অন্য কাউকে নিয়ে চেষ্টা করতাম।’’

নির্বাচকদের এই ভাবনার মূল কারণ, বিশ্বকাপগামীদের পারফরম্যান্সের বেহাল দশার কারণে। বিপিএলের আগে জাতীয় দল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলেছিল। সিরিজ জয়ের পর অধিনায়ক লিটন দাস জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে কোন ১৫ জন নিয়ে তিনি যাবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। তবে বিপিএল অভাবনীয় পারফরম্যান্স কেউ করলে তার জন্য জায়গা খোলা আছে। বাংলাদেশ শেষ এক বছরে যাদেরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছে, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা পরীক্ষা করেছে তাদেরকেই নিয়ে সাজিয়েছে বিশ্বকাপের স্কোয়াড। কিন্তু তাদের পারফরম্যান্স আশা ব্যাঞ্জক নয়। বোলারদের পারফরম্যান্সে আশা করার খোড়াক আছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের বেশিরভাগের অবস্থান লেজেগোবরে।

টপ অর্ডারে লিটন ও তানজিদের ব্যাটে রান নেই। তানজিদ ৮ ম্যাচে করেছেন ১৬৬ রান। শেষ ম্যাচে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। এর আগে ৭ ম্যাচে তার রান ছিল কেবল ৯০। লিটন ৮ ম্যাচে করেছেন মাত্র ১৬২ রান। নেই কোনো ফিফটি। সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ সাইফ হাসানকে নিয়ে। টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান সাইফ নিজের ছায়া হয়ে আছেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা সাইফ ৭ ম্যাচে মাত্র ৪৮ রান করেছেন। ২টিতেই খুলতে পারেননি রানের খাতা। শুরুর ব্যাটসম্যানদের এই ফর্ম নিয়ে চিন্তায় নির্বাচকরাও, ‘হ্যাঁ টপ অর্ডারের পারফরম্যান্সটা ভালো হতে পারত। একেবারেই রানে নেই। ভালো শুরুর পর কেউই পারেনি নিজেদের ইনিংস লম্বা করতে।’’ ব্যাটসম্যানদের মধ্যেই পারভেজ হোসেন ইমন রানে রয়েছেন। সিলেট টাইটান্সের এই ব্যাটসম্যান ৯ ম্যাচে ২৮৮ রান করেছেন। ব্যাটিং গড় ৪১.১৪, স্ট্রাইক রেট ১৩০.৩১। শুরুর দিকে পারভেজ চার নম্বরে খেলছিলেন। কয়েক ম্যাচ আবার ওপেনিংয়ে ফিরেছেন তিনি।

৮ ম্যাচে ২০৭ রান করা তাওহীদ এক ম্যাচে ৯৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। রংপুর রাইডার্সের হয়ে সেদিন তাওহীদ নেমেছিলেন ওপেনিংয়ে। শামীম হোসেন ৭ ইনিংসে ১৫০ রান করেছেন। এক ম্যাচেই তার ব্যাট থেকে আসে ৮১ রান। এছাড়া ফিনিশিংয়ে একাধিক ম্যাচে ভালো করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেননি সেসব। রংপুরের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক কাজী নুরুল হাসান সোহান নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। ৬ ইনিংসে ৩টিতে নট আউট ছিলেন। রান করেছেন মাত্র ৩০। এছাড়া লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাহেদী হাসান ৫ ইনিংসে করেছেন ১০১ রান।

সব মিলিয়ে ব্যাটসম্যানদের অবস্থান অনেকটাই নাজুক। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার। এরপর লোয়ার অর্ডারে যারাই আছেন তাদের মধ্যে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারছেন পারভেজ হোসেন। বাকিদের বেহাল দশা। সিলেট পর্ব শেষে বিপিএল এখন ফিরেছে ঢাকা। ব্যাটসম্যানদের শেষ সুযোগ নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার।

তানজিদ হাসান সেই আশাই দেখালেন, ‘‘আমি সর্বশেষ ৬-৭টি ম্যাচ ওরকম পারফর্ম করতে পারিনি দলের জন্য। ভালো কিছু অবদান রাখতে পারিনি। তারপরও টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে এবং সিনিয়র প্লেয়ারদের থেকে যেরকম সাপোর্ট পেয়েছি, তারা আমার ওপর যে বিশ্বাসটা রেখেছে তা আমি বলবো একটা দলের ভালো গুণের একটি। বিপিএল শেষে আমাদের কোনো সময় নেই। এই বিপিএলের মাঝখানেই আমাদের যতটুকু প্রস্তুতি নেওয়ার নিতে হবে।’’

নিজের ঘাটতি খুঁজে পেয়ে শুধরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তানজিদ, ‘‘আমি যে কয়েকটি ম্যাচ রান করিনি, নির্দিষ্ট জিনিস বের করার চেষ্টা করেছি যে জিনিসটা আমার ভুল হয়েছিল কিংবা কোথায় ঘাটতি আছে। সেটা খুঁজে পেয়ে সেভাবে এখন কাজ করছি। আশা করি এখন থেকে যদি নিয়মিত পারফর্ম করতে পারি তাহলে আমার জন্য ভালো হবে এবং দলের জন্য সাহায্য হবে।’’

বোলিংয়ে মোস্তাফিজুর রহমান রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। নিয়মিত উইকেট তো পাচ্ছেনই। সঙ্গে কিপটে বোলিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। বোলিং ইকোনমি ৭.০৭। ৮ ম্যাচে ২১২ রান দিয়ে ১৩ উইকেট পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার। পেসার শরিফুল ইসলামও বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তারও ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট। বোলিং ইকোনমি ৬.৯২। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম ৯ ম্যাচে পেয়েছেন ১২ উইকেট। এছাড়া তানজিম হাসান, সাইফ উদ্দিন ও তাসকিন আহমেদ প্রায় একই রকম ফর্মে আছেন। তানজিম ৭ ম্যাচে ৭, তাসকিন ৫ ম্যাচে ৩ ও সাইফ উদ্দিন ৭ ম্যাচে ৬ উইকেট পেয়েছেন। আরেক স্পিনার মাহেদীর ৭ ম্যাচে রয়েছে ৭ উইকেট। বিশ্বকাপের আগে শেষ কয়েকটি ম্যাচে বোলাররা নিজেদেরকে আরো ঝালিয়ে নিতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT