রংপুর প্রতিনিধি || রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনার তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। অধিকতর স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার জন্যই তদন্ত সংস্থা বদল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
এর আগে, সোমবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে গিয়ে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলীর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত ও নথিপত্র হস্তান্তর করেন। পরে বিকেলে পুরাতন ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তাই ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বাড়ি পরিদর্শন করেন। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিষয়গুলো তুলে ধরেন নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “রবিবার (২৩ আগস্ট) গভীর রাত পর্যন্ত দুই অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা যেটা আদালত সূত্রে জানতে পেরেছি, আসামিরা তারা অ্যাজ ইট ইজ অর্থাৎ আমাদের কমিশনার স্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদেরন যেটা বলেছেন, দেশবাসীকে যেটা জানিয়েছেন, একই ঘটনা তারা বলেছেন। তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তও করেছে, যেটা আমাদেরকে বলেনি।”
তিনি বলেন, “মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলী, উনি এখন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্যই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
গত ২২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে নগরীর মাসুয়া পাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও স্নাতক সম্পন্ন করা মেয়ে ও প্রাথমিকে পড়ুয়া ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গণপতির বড় ভাই গুপিনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।
তিনি জানান, গভীর রাতে গণপতির বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। বাধা দেওয়াই একে একে তারা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাসার মালিক গণপতিসহ তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে।