1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
রংপুরে ৪ হত্যা : দুই যুবকের জবানবন্দির পরও কাটছে না রহস্যের ধোঁয়াশা - দৈনিক প্রথম ডাক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

রংপুরে ৪ হত্যা : দুই যুবকের জবানবন্দির পরও কাটছে না রহস্যের ধোঁয়াশা

রংপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০৫ বার দেখা হয়েছে
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রংপুর প্রতিনিধি || রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দাবি, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে দুই যুবকের পক্ষে একই বাড়িতে একে একে চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা, বাইরে থেকে বাড়ির ফটক তালাবদ্ধ পাওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

ঘটনার পর পুলিশের দেওয়া বক্তব্য, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং পরবর্তী তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে মামলার তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, অধিকতর স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার জন্যই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চট্টোপাধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে গিয়ে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিনাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে বিকেলে পুরোনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তাই ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ও তদন্তের বিষয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্রিফ করেন।

গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জিনাত আলী এখন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্যই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গণপতি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যে অমিল নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ের চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দায়িত্বে থাকা ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিহতদের মুখমণ্ডলের কিছুটা বিকৃতি কোনো রাসায়নিকের কারণে নয়। মরদেহ পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মুখের রং ও চেহারায় এমন পরিবর্তন হয়েছে। তাদের চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণও ময়নাতদন্তে মেলেনি।

লাশের মুখ তরল পদার্থ বা অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছে- এমন গুঞ্জনেরও কোনো সত্যতা ময়নাতদন্তে মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি। কয়েকদিন মরদেহ পড়ে থাকার কারণে মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়ার মতো দেখিয়েছে বলেও জানান ওই চিকিৎসক।

ময়নাতদন্তের সময় বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়াও আসামি গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই ধর্মাবলম্বী হওয়া এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আসামির পোশাকের মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যদিও পোশাকের মিল নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। তবে আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন।

সিদ্ধার্থ দাসের বাবা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের সময় তার ছেলে সিদ্ধার্থ দাসের পরনে গেঞ্জি ছিল। আলোচনায় আসা ওই শার্টের রং তিনি চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন, পোশাকের বিষয়টি এবং পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের বিশ্লেষণ নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন আসামি গ্রেপ্তারের পর থেকেই রংপুরে শুরু হয়েছে সঠিক তদন্ত ও রহস্য উন্মোচনের দাবিতে আন্দোলন।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী

গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর কর্মস্থল রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ করেন। পরে হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্তের দাবি তুলে প্রায় এক ঘণ্টা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন তারা।

এ সময় জিলা স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবকের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধারের ছয় ঘণ্টার মধ্যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার এবং রহস্য উদঘাটন নিয়ে পুলিশের বক্তব্যকে ‘সাজানো নাটক’ বলে আখ্যা দেন তারা।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনের একই দাবিতে গতকাল বিকেলে রংপুরের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন বাংলার চোখ ও নাগরিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মশাল মিছিল করে। এসব আন্দোলনে মামলার তদন্তের বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বক্তারা। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই যুবক কীভাবে একটি বাড়িতে চারজনকে একে একে হত্যা করতে পারে,‌ এনিয়ে পুলিশের বক্তব্যের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানান এসব সংগঠনের বক্তারা।

ঘটনাস্থলে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষজন ভিড় জমাচ্ছেন

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় দলে দলে মানুষ আসছেন। তারা হত্যাকাণ্ডের বাড়িটি দেখছেন।

গণপতি চক্রবর্তীর তিনতলা বাড়ির দেয়ালঘেঁষা টিনশেড বাড়িটি গ্রেপ্তার হওয়া যুবক সিদ্ধার্থ দাসের। ওই বাড়িতে গিয়ে কথা হয় সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাসের সঙ্গে।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছেলে জড়িত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিনয় দাস বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি তারা প্রত্যক্ষ করেননি। তাই ছেলে জড়িত কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না। ছেলের জবানবন্দি ও পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।

ছেলে মাদকের সঙ্গে জড়িত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিনয় দাস বলেন, তার ছেলে স্বর্ণশ্রমিক। তার আচার-আচরণ ভালো। তবে ভেতরে ভেতরে সে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে কি না, সেটি তাদের জানা নেই। তবে দুই যুবক চারজন মানুষকে একসঙ্গে হত্যা করবে- বিষয়টি তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান বিনয় দাস।

গণপতি হত্যাকাণ্ডের মামলার বাদী ও শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী জানান, তার ছোট ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তারা গ্রামে থাকেন এবং গণপতি শহরে বাসাবাড়ি করে থাকতেন। তার প্রাণনাশের মতো শত্রু থাকতে পারে এটি তারা ভাবতে পারেননি।

এই হত্যাকাণ্ডে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, সেটি পুলিশের তদন্তের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে চান তিনি। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।

গণপতি চক্রবর্তীর কোনো শত্রু ছিল কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, তার ছোট ভাই এখানে বাড়ি করার সময় কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের কথা শুনেছিলেন। বাড়ি করতে কিছু চাঁদার টাকা দেওয়ার বিষয় নিয়ে ওই বিরোধ হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই বিষয়টি সমাধানও হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

রংপুর সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমির চৌধুরী জানান, হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ি থেকে সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করেছে। সংগৃহীত সব উপাদান সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মধ্যরাতে তাদেরকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোরে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

ওই দিন দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আবদুল মাবুদ জানান, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্দেহভাজন দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আবদুল মাবুদ

রবিবার বিকেলে নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এদিকে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া হিন্দু পল্লীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করার বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার জনমনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

তবে চারজনের হত্যাকাণ্ডে দুই যুবকের গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, ঘটনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, ময়নাতদন্তের তথ্য, ঘটনাস্থলের আলামত নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠছে বিভিন্ন প্রশ্ন। দুই যুবকের গ্রেপ্তারকে তদন্তের শেষ নয়, বরং নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এখন সবার প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT