গাজীপুর প্রতিনিধি || একবার উদ্ধার, এরপর শর্তসাপেক্ষে মালিকের জিম্মায় ফেরত- কিন্তু শর্ত মানা হয়নি। শেষ পর্যন্ত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে আবারও বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে ‘নিহার কলি’ ও ‘সম্রাট বাহাদুর’ নামের দুটি হাতিকে। বর্তমানে হাতি দুটি গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পৃথক দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল ‘নিহার কলি’ ও ‘সম্রাট বাহাদুর’কে। এ সময় হাতি দুটির নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একাধিক শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু জিম্মাগ্রহীতারা সেই শর্ত যথাযথভাবে পালন করেননি। বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নজরে এলে তিনি হাতি দুটির নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৩ আগস্ট) বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে হাতি দুটিকে পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নেন।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ‘নিহার কলি’ নামের মাদি হাতিটিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকা থেকে এবং ‘সম্রাট বাহাদুর’ নামের পুরুষ হাতিটিকে জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাতি দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হচ্ছে।
পার্কে পৌঁছানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। পরে নির্ধারিত শেডে রেখে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে দুটি হাতিকেই পৃথক ঘটনায় উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাহুত নজরুল ইসলামকে পিষে হত্যার পর ‘সম্রাট বাহাদুর’কে উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে উদ্ধার করা হয় ‘নিহার কলি’কে।
বন বিভাগের অভিযোগ ছিল, হাতি দুটিকে ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা ও নির্যাতন করা হতো। এসব অভিযোগের পর হাতি দুটিকে সাফারি পার্কে এনে রাখা হয়েছিল।
এর মধ্যেই গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় একাধিক হাতির মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়। গত ৬ ও ৭ আগস্ট সেখানে দুটি হাতির মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ১০ বছর বয়সী ‘রাজু বাহাদুর’ গত ২৪ মে চার বছর বয়সী ‘জয়িতা’র হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিল। শেকলে বাঁধা অবস্থায় হামলার শিকার হয়ে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায়।
তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। আনা হয় থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও নানা প্রচেষ্টার পরও গত ৭ আগস্ট শুক্রবার রাজু বাহাদুরের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পার্কের অপর একটি হাতির মৃত্যু হয় ৬ আগস্ট।
পরপর হাতির মৃত্যুর ঘটনার পরই ‘সম্রাট বাহাদুর’ ও ‘নিহার কলি’কে শর্তসাপেক্ষে তাদের মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই হাতি দুটিকে আবারও বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হলো।
এখন তাদের গন্তব্য আবারও গাজীপুর সাফারি পার্ক। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর হাতি দুটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।