আন্তর্জাতিক ডেস্ক || জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’উল্লেখ করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই; ঠিক এমন এক সময়েই ট্রাম্পের এই ক্ষোভ প্রকাশ পেল।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান রাষ্ট্র হিসেবে পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি লিখেন, “ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এটি একদম শেষ! তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, কোনো মুদ্রা ব্যবস্থা নেই; তারা নিজেদের সৈন্য বা পুলিশকে বেতন দিতে পারছে না, মুল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ৩০০ শতাংশে এবং তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি বিশৃঙ্খল ও দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে অক্ষম।”
যুদ্ধের শুরুর দিক থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের সরকার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তবে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সক্রিয় নেতৃত্বে ইরান সরকার এখনো টিকেই রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো দলত্যাগের ঘটনাও ঘটেনি।
হরমুজ প্রণালিতে তেহরান নতুন করে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে রবিবার (৩০ আগস্ট) ইরানের লারক দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালালে অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়।
ইরানও দ্রুত পাল্টা আঘাত হানে; জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা বুঝিয়ে দেয়- আক্রমণ হলে পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা ও মানসিকতা দুটোই তাদের রয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ট্রাম্প ইরানের এই পাল্টা হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, যা সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি। নিশ্চিতভাবেই এর একটা উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
যদিও গত মাসের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল যে, তারা সামরিক অভিযানের পথ ছেড়ে অর্থনৈতিক চাপের কৌশল বেছে নিচ্ছে। তবে নতুন এই সংঘর্ষ প্রমাণ করেছে- সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধের কোনো চুক্তি ছাড়া যুদ্ধের ঝুঁকি সমসময়ই থেকে যায়।
সোমবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সরকারবিরোধীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নই মূলত ইরান সরকারকে টিকে থাকতে সাহায্য করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “তাদের (ইরানের) ঝুলিতে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভুয়া খবর, নিজেদের বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার মানসিকতা (এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত; মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের জন্য নিশ্চয়ই তাদের বিচার হতে হবে!), আর কেবল বাজে বকবকানি ছাড়া আর কিছুই নেই।”
ট্রাম্পের এই ১ লাখ বিক্ষোভকারী নিহতের দাবিটি একেবারেই নতুন। এর আগে বছরের শুরুর দিকে আন্দোলনের সময় ইরান প্রায় ৬০ হাজার মানুষ হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযো্গ করেছিলেন।
অন্যদিকে, ইরান সরকার নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন বলে দাবি করেছে- যার মধ্যে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে। এসব মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল সমর্থিত ‘দাঙ্গাবাজদের’দায়ী করেছে তেহরান।
যুদ্ধরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগও এনেছে ইরান। যুদ্ধের প্রথম দিন দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় ১৬৮ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা