আন্তর্জাতিক ডেস্ক || ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান ও খুজেনস্তান প্রদেশে মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলার জবাবে জর্ডান, বাহরাইন এবং ইরাকে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালায়। এতে পাঁচজন নিহত হন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। একইসঙ্গে এ হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি খুজেস্তান প্রদেশের তিনটি স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও সাতজন নিহত এবং আটজন আহত হন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী হার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী পৃথক একাধিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্চাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে এর প্রতিশোধ নিয়েছে।
জর্ডান
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আকাবা উপসাগরের কাছে অবস্থিত ক্যাম্প টিটিনে মার্কিন মেরিন ব্যারাক লক্ষ্য করে একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, এই হামলায় একাধিক সামরিক স্থাপনা ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটির মার্কিন স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। এ হামলায় মার্কিন আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুসারে, এই হামলায় বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, একাধিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামোগত স্থাপনায় আগুন লেগেছে এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন পাইলট ও প্রযুক্তিগত ফ্লাইট ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।
বাহরাইন
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর রাডার স্থাপনা ও যুদ্ধবিমানের অবকাঠামো কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে বড় আকারের কামিকাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরাক
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইরাকের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযানে ঘাঁটির একটি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের গুদাম এবং একটি মার্কিন নজরদারি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও একটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্কেও আগুন লেগে যায়, যার ফলে মার্কিন বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছেন।
আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুসারে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কয়েক ঘণ্টা আগে এসব অভিযান চালানো হয়।
তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকি ৩টি জনমানবহীন এলাকায় পড়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনও ইরানের ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে।