খেলাধুলা ডেস্ক || এক বছর আগেও যে মিডফিল্ডারকে ঘিরে ছিল চেলসির ভবিষ্যতের স্বপ্ন, এবার সেই এনজো ফার্নান্দেজই পাড়ি জমালেন ক্লাবটির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটিতে। দলবদলের শেষ দিনে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে দলে টেনে নিয়েছে সিটি। পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে যোগ দিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এনজো।
এই দলবদলের সবচেয়ে বড় চমক অবশ্য শুধু ক্লাববদল নয়, ট্রান্সফার ফিও। এনজোর জন্য সিটির খরচ হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যা প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো। এই অঙ্কে ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ট্রান্সফারের রেকর্ডে লিভারপুলের আলেক্সান্ডার ইসাকের পাশে বসেছেন এনজো। অর্থাৎ একই অঙ্কে এখন যৌথভাবে ব্রিটিশ রেকর্ড ট্রান্সফারের মালিক দুজন।
এনজোর ফার্নান্দেসের সিটিতে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন এনজো মারেসকা। চেলসিতে ইতালিয়ান কোচের অধীনে নিজের সেরা সময়গুলোর একটি কাটিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। মারেসকা চেলসি ছাড়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব নেন, আর এবার পুরোনো শিষ্যকেও নিয়ে এলেন ইতিহাদে। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত সেই পুনর্মিলনই হলো।
সিটিতে যোগ দিয়ে এনজো বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল ক্লাব। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এমন একটি ক্লাবের অংশ হতে চায়। এখানে আসার চেয়ে বেশি আনন্দের কিছু হয় না, ট্রফি জিততে সহায়তা করার চ্যালেঞ্জের জন্য আমি প্রস্তুত।’
তবে এই গল্পের আরেকটি দিক আচে। সেটা বেশ তিক্ত। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বেনফিকা থেকে এনজোকে আনতে সে সময়ের লিগ রেকর্ড ১২১ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছিল চেলসি। মাত্র ছয় মাস পরই পর্তুগিজ ক্লাবটি ছেড়ে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এসেছিলেন তিনি। চেলসির হয়ে তিন মৌসুমে ১৭০ ম্যাচে ৩১ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্ট করেছেন এনজো।
চেলসির হয়ে শেষ সময়ে এনজোর বিদায়ও ছিল নাটকীয়। তাকে ছাড়ার পর শেষ মুহূর্তে বিকল্প হিসেবে লামিনে কামারাকে আনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফলে বড় অঙ্কের অর্থ পেলেও নতুন মৌসুমের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ একজনকে হারিয়েই ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ করেছে চেলসি।