1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Golam Saroar : Golam Saroar
ভারতের ওপর আরো শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের - দৈনিক প্রথম ডাক
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

ভারতের ওপর আরো শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রুশ তেল কেনা কমানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি ভারত না মানলে নয়াদিল্লির ওপর আরো শুল্ক বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়েছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রবিবার (৪ জানুয়ারি) ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তিনি জানেন আমি খুশি নই এবং আমাকে খুশি করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

ভারতের রুশ তেল কেনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করে এবং আমরা তাদের ওপর খুব দ্রুত শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারি।”

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেছিল। এরপর থেকে কয়েক মাস ধরে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চললেও বাণিজ্য চুক্তি এখনো অধরাই থেকে গেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি তারই ধারাবাহিকতা।

সোমবার ভারতের শেয়ার বাজারে এর প্রভাব দেখা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্টক ইনডেক্স প্রায় ২.৫ শতাংশ কমে গত এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত যে, তিক্ত বাণিজ্য সম্পর্কের কারণে মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি আরো বিলম্বিত হতে পারে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সফরসঙ্গী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, রুশ তেল কোম্পানিগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ নয়াদিল্লিকে তেল আমদানি কমাতে বাধ্য করেছে।

গ্রাহাম এমন একটি আইনের সমর্থন করছেন যা ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে, যদি তারা রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখে। তিনি বলেন, “আপনি যদি সস্তায় রুশ তেল কেনেন, তবে আপনি পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সচল রাখছেন। আমরা প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে তিনি শুল্কের মাধ্যমে বিষয়টিকে একটি পথে নিয়ে যেতে পারেন।”

গ্রাহামের মতে, ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণেই ভারত এখন ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কম রুশ তেল’ কিনছে।

তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন বলেছেন, নয়াদিল্লির এই সতর্ক অবস্থান তাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ভারতীয় রপ্তানি পণ্য ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে আরোপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যদিও ভারতীয় কোম্পানিগুলো রুশ তেল কেনা কমিয়েছে কিন্তু কেনাকাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এটি ভারতকে একটি ‘কৌশলগত অবস্থানে’ রেখে দিয়েছে।

শ্রীবাস্তব বলেন, “অস্পষ্টতা এখন আর কাজে আসবে না।” তিনি ভারতকে রুশ তেলের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করলেও মার্কিন চাপ কমবে না; বরং তা অন্য বাণিজ্যিক দাবিতে স্থানান্তরিত হতে পারে। কিন্তু উচ্চ শুল্কের কারণে রপ্তানিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।”

এদিকে, গত শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভারত সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ওয়াশিংটনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ভারত সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারত সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি সপ্তাহে রুশ ও মার্কিন তেল ক্রয়ের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

শুল্ক আরোপের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তত তিনবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত মাসে ভারতের বাণিজ্য সচিব মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও আলোচনা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT