1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
ইনকিউবেটরে আগুন, ৫ ঘণ্টার নবজাতকের শরীরের পুড়ল ৯৫ শতাংশ - দৈনিক প্রথম ডাক
সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

ইনকিউবেটরে আগুন, ৫ ঘণ্টার নবজাতকের শরীরের পুড়ল ৯৫ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে
হাসপাতালে ভর্তি আগুনে দগ্ধ নবজাতক

নিউজ ডেস্ক || রাজধানীর চাঁনখারপুলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইনকিউবেটরে আগুন লেগে পাঁচ ঘণ্টা বয়সী এক নবজাতকের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে রয়েল কেয়ার হাসপাতালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নবজাতকটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এনআইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন নবজাতকের বাবা মো. রাব্বানী। তার দাবি, ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনার সময় হাসপাতালে দায়িত্বশীল কোনো কর্মীকে পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।

রাব্বানী জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তার সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকরা তাকে এনআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেখানে শয্যা খালি না থাকায় এক চিকিৎসকের পরামর্শে ভোর ৫টার দিকে ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে শিশুটিকে চাঁনখারপুলের রয়েল কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শিশুটির বাবার অভিযোগ, ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নবজাতককে হাসপাতালের এনআইসিইউতে একটি ইনকিউবেটরে রাখা হয়। এ সময় তিনি ও তার ভাতিজা রেজাউল ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্রের কাজ করছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন, শিশুটিকে রাখা মেশিনে আগুন জ্বলছে। এতে নবজাতকের শরীরেও আগুন ধরে যায়। ওই সময় হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মীদের কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরে স্বজনরা আগুন নিভিয়ে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মীর সহযোগিতায় শিশুটিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। তবে ঢামেকের চিকিৎসকরা শিশুটিকে আবার রয়েল কেয়ার হাসপাতালে ফেরত পাঠান বলে দাবি স্বজনদের।

পরবর্তী সময়ে রয়েল কেয়ার হাসপাতালে গেলে দায় এড়ানোর অভিযোগ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসপাতালের লোকজন তাদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন রাব্বানী।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। কিন্তু ওদের অবহেলায় আমার পাঁচ ঘণ্টার বাচ্চার শরীর পুড়ে গেল। আমি এই কসাইদের বিচার চাই।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, শিশুটিকে ভর্তি করার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এটি নিছক দুর্ঘটনা। শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল না। স্বজনদের মারধরের অভিযোগও সঠিক নয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাজকিয়া হক জানান, নবজাতকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। বিষয়টি স্বজনদের বারবার জানানো হলেও তাঁরা তা মানতে চাইছেন না এবং চিকিৎসায় সহযোগিতা করছেন না।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। নবজাতকটি বর্তমানে হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT