1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা, স্বস্তি নেই মাছ-মাংসে - দৈনিক প্রথম ডাক
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন

সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা, স্বস্তি নেই মাছ-মাংসে

তানভীর আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

তানভীর আহমেদ || রাজধানীর বাজারে সবজি, মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও মাছ ও মাংসের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে মাছ ও মাংস কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও কাপ্তানবাজারের পাইকারি আড়ত এবং আশপাশের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পাতাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। নতুন আলু ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং পুরনো আলু ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

এ ছাড়া লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও সব ধরনের সবজির দামে এখনো স্বস্তি আসেনি।

যাত্রাবাড়ী বাজারে সবজি কিনতে আসা যোবায়ের হোসেন বলেন, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু দাম এখনো খুব একটা কমেনি। পরিবারের জন্য বাজার করতে গেলে অন্য পণ্যের খরচ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা আবুল বাশার বলেন, কিছু সবজির দাম সহনীয় হলেও সব মিলিয়ে বাজারের খরচ কমছে না। মাছ-মাংসের দাম বেশি হওয়ায় অনেক সময় সবজি দিয়েই খাবারের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর সবজি বিক্রেতা সালাউদ্দিন বলেন, আড়তে সবজির দাম প্রতিদিন এক রকম থাকে না। সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আবার কোনো সবজির সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। শীতের সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুরগির বাজারে কাপ্তানবাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে ব্রয়লার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা এবং সোনালি ৩০০ থেকে ৩১৫ টাকা। লেয়ার মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৩০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাপ্তানবাজারের মুরগি বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে মুরগির দাম খুব বেশি ওঠানামা করছে না। তবে মুরগির আকার ও মান অনুযায়ী খুচরা দামে কিছুটা পার্থক্য থাকে। ক্রেতারাও এখন দাম যাচাই করে মুরগি কিনছেন।

ডিমের বাজারেও দামের স্থিতিশীলতা রয়েছে। কাপ্তানবাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা, সাদা ডিম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে প্রতি ১০০টি লাল ডিমের দাম ১ হাজার ৮০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।

কাপ্তানবাজারের পাইকারি বিক্রেতা আমানুর রহমান বলেন, পাইকারি বাজারের দামের ভিত্তিতেই খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দামও মোটামুটি একই পর্যায়ে থাকে। তবে বাজারভেদে ডজনপ্রতি দামে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।

অন্যদিকে মাছের বাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। যাত্রাবাড়ী বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। বড় আকারের রুইয়ের দাম ৭০০ টাকা পর্যন্ত। কাতল ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাবদা ও শিং মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা সবুর বলেন, মাছের বাজারে দাম অনেক বেশি। পরিবারের জন্য এক কেজি মাছ কিনতেও এখন হিসাব করতে হয়। বড় মাছ কিনতে গেলে আরও বেশি টাকা লাগে। তাই আগের তুলনায় মাছ কেনার পরিমাণ কমাতে হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা আবজাল বলেন, মাছের দাম আকার ও প্রজাতির ওপর নির্ভর করে। বড় রুই-কাতলের দাম বেশি। ছোট মাছের ক্ষেত্রেও সরবরাহ ও চাহিদার কারণে দামে পার্থক্য হয়।

মাংসের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮১০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা নিজামুল বলেন, গরুর মাংসের দাম প্রায় ৮০০ টাকা কেজি। খাসির মাংস কিনতে গেলে আরও বেশি খরচ। ছুটির দিনেও ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় পরিবারের জন্য মাংস কেনা সম্ভব হয় না। দাম কমলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেত।

সব মিলিয়ে সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা থাকলেও মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্য এখনো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ হয়ে রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় সামাল দিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে প্রতিটি পণ্য কেনার আগে হিসাব-নিকাশ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT