1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
সিলেটের মাটিতে বাড়ছে অ্যাসিডিটির মাত্রা - দৈনিক প্রথম ডাক
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

সিলেটের মাটিতে বাড়ছে অ্যাসিডিটির মাত্রা

সিলেট প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৪ বার দেখা হয়েছে

সিলেট প্রতিনিধি || একসময় সিলেটের বিস্তীর্ণ জমিতে জন্মাতো লেবু, কমলা, জাম্বুরার মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল। সেই জমির চরিত্র বদলে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। মাটি পরীক্ষায় উঠে এসেছে, অঞ্চলটির প্রায় সব মাটিই এখন অম্লীয়। গত দেড় দশকে এই অম্লতা আরো তীব্র আকার নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অতিবৃষ্টি ও বারবার বন্যাকে এর জন্য দায়ী করছেন মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞরা।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের জরিপ বলছে, সিলেট অঞ্চলের ৯২ শতাংশ মাটি অ্যাসিডিক প্রকৃতির, যার মধ্যে ২৬ শতাংশ মাটি অতিমাত্রায় অম্লীয়-পিএইচ মাত্রা ৪ দশমিক ৫-এর নিচে। আরো ৬৬ শতাংশ মাটির পিএইচ রয়েছে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫-এর মধ্যে। বাকি মাত্র ৮ শতাংশ মাটির পিএইচ তুলনামূলক ভালো -৫ দশমিক ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫।

সংস্থাটি একই উপজেলার মাটি নিয়ে দুই দফায় জরিপ চালিয়েছে, একবার ২০০৯ সালে, আরেকবার ২০২৬ সালে। দুই জরিপের ফল পাশাপাশি রাখলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে অবনতির চিত্র।

বড়লেখা উপজেলায় ২০০৯ সালে মাটির পিএইচ ছিল ৪ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৭-এর মধ্যে। ২০২৬ সালের জরিপে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯ থেকে ৫-এ। বিয়ানীবাজার উপজেলার চিত্রও প্রায় একই ২০০৯ সালে পিএইচ এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫, এখন তা ৪ দশমিক ২-এ নেমেছে। বিজিপুর এলাকায় উঁচু জমিতে আগে পিএইচ ছিল ৪ দশমিক ২, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪-এ। প্রিতিমপাশা ও মনু এলাকার মাঝারি-নিচু ও নিচু জমিগুলোতেও একই ধরনের অবনতি ধরা পড়েছে- জরিপে কোথাও কোথাও পিএইচ নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৮-এর কাছাকাছি।

শুধু অম্লতাই বাড়ছে না, মাটির উর্বরতা নিশ্চিতকারী গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোও ক্রমেই কমে আসছে বলে জানাচ্ছে গবেষণা। জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, গন্ধক, দস্তা, বোরণ, তামা, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ — এই সবকটি উপাদানের মাত্রাই নিম্নমুখী।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সিলেটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “সিলেটে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের স্রোতে মাটির উপাদন ক্ষয় হচ্ছে। মাটির ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান ব্যাপক হারে কমছে। এতে মাটির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় চাষাবাদে পরিবর্তন ঘটছে।”

তিনি জানান, একদিকে মাটির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকরা না বুঝে মাটিতে সবচেয়ে বেশি ইউরিয়া সার ব্যবহার করছেন। ইউরিয়া ব্যবহারের কারণে মাটির এসিডিটি বাড়ছে।

কামাল হোসেনের ব্যাখ্যায়, পিএইচ মাত্রা ৭-এর কম হলেই মাটিকে অ্যাসিডিক বলা হয়। সিলেটের প্রায় ৮০ শতাংশ মাটির পিএইচ ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫-এর মধ্যে অবস্থান করছে।

তবে সব ফসলের জন্য এই অম্লতা সমান সমস্যা তৈরি করে না বলে জানান কামাল হোসেন। তার ভাষ্যে, সিলেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা হাওরবেষ্টিত, যা বছরের বড় সময় পানির নিচে ডুবে থাকে। এমন পরিবেশে ধান চাষের ক্ষেত্রে কম পিএইচের মাটি তেমন বাধা তৈরি করে না। কিন্তু ফল ও সবজি উৎপাদনে এই অম্লতাই বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সিলেটে প্রাকৃতিকভাবে আমগাছ জন্মালেও বাণিজ্যিক পর্যায়ে আম চাষে সফলতা পাওয়া কঠিন। কারণ এই অঞ্চলের মাটি আম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয়।

সিলেটে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি জানান, উত্তরপূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেটে বৃষ্টিপাতের কারণ হলো উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু। এই বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বহন করে নিয়ে আসে। মেঘালয় পাদদেশে ঘনীভবন ঘটিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মৌসুমি বায়ু কত আগে আসবে সেটা নির্ভর করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতার উপর। সমুদ্রপৃষ্ঠ মার্চ-এপ্রিল মাসে প্রচুর সূর্যালোক গ্রহণ করে বিপুল পরিমাণে জলীয় বাষ্প দেয়। সেই জলীয় বাষ্প বাতাসে নিয়ে এসে আমাদের এখানে বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে। মৌসুমি বায়ু আগে ভাগে চলে আসায় সিলেটে আগাম বৃষ্টিপাত হচ্ছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT