1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
মৃত্যুর পরও মিলল না কবরের জায়গা - দৈনিক প্রথম ডাক
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন

মৃত্যুর পরও মিলল না কবরের জায়গা

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৬ বার দেখা হয়েছে

গাজীপুর প্রতিনিধি || মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা হয় কবর। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধের কারণে সেই শেষ ঠিকানাটুকুও জোটেনি শ্রী মেনোকার (৬০। রাতভর তার মরদেহ পড়ে ছিল বসতঘরের বারান্দায়। ঘরের পাশে কবর খননের চেষ্টা করা হলেও বাধা দেওয়ায় দাফন করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজ বসতবাড়ির উঠানেই মেনোকার মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বজনরা।

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। মেনোকা মান্দাই ধর্মাবলম্বী। তিনি ওই গ্রামের গোপালের স্ত্রী। বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোপাল কয়েক দশক আগে আক্তাপাড়া গ্রামে এক শতাংশ জমি কিনে একটি ছোট ঘর তৈরি করে স্ত্রী মেনোকা ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। প্রায় এক বছর আগে প্রতিবেশী ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে আরো এক শতাংশ জমি কেনেন তিনি। তবে মিউটেশন (খারিজ) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি, জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল।

পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি ছফর উদ্দিন ওই জমি বিক্রির কথা অস্বীকার করেন। এর জেরেই মেনোকার মৃত্যুর পর ঘরের পাশে তাকে দাফনের জায়গা নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বসতবাড়ির বারান্দায় কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে আছে মেনোকার মরদেহ। পাশে বসে স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন। কখন কবর খোঁড়া যাবে, কখন শেষ বিদায় জানানো হবে-এমন অনিশ্চয়তায় রাত কাটাচ্ছিলেন তারা।

স্বজনদের ভাষ্য, দুপুরের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে কয়েক দফা সালিসি বৈঠক হয়। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধের কোনো মীমাংসা না হওয়ায় ঘরের পাশে কবর খনন করা সম্ভব হয়নি।

মেনোকার ভাই নিধারণ বলেন, “এক শতাংশ জমি কেনা হয়েছিল এই আশায় যে, মারা গেলে ঘরের পাশেই মাটি দেওয়া যাবে। কিন্তু সেই সুযোগও এখন নেই। কবর খনন করতে গেলে ছফর উদ্দিন ও তার স্ত্রী-সন্তানেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেন। তিনি এখন জমি বিক্রির কথাও অস্বীকার করছেন। স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফা বসেও বিষয়টির সমাধান করতে পারেননি।”

মেনোকার ছেলে সুনিল বলেন, “মায়ের মরদেহ নিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। মেম্বার, চেয়ারম্যান ও থানা-পুলিশের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। রাত জেগে মরদেহ পাহারা দিতে হয়েছে। কবর খনন করতে না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমাদের বসতবাড়ির উঠানেই মাকে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছফর উদ্দিন বলেন, “আমার জমিতে মান্দাই মহিলাকে দাফন করতে দেব না। আমি তার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। কোনো টাকাপয়সাও নেইনি।”

মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, “ছফর উদ্দিনকে অনেক বোঝানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কারও কথা মানছেন না। এ কারণে কোনো সমাধান হয়নি এবং মরদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি।”

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সাধ্যমতো বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। কিন্তু সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের আদালতের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT