ফেনী প্রতিনিধি || দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছি, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণাও চালু রাখতে হবে, যাতে নরমাল ডেলিভারিকে আরো উৎসাহিত করা যায়।
তিনি বলেন, সিজারিয়ান সেকশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ নিঃসন্দেহে অপরাধ। এটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্যখাতকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, এবারের বাজেটে এ খাতে ৩৭ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে জিডিপির দশমিক ৬ থেকে দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, এবার তা বেড়ে জিডিপির ১ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট কাটিয়ে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার কাজ চলছে। অচিরেই স্বাস্থ্যখাতের গুণগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি হাসপাতালের মতো এই হাসপাতালেও রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি। ধারণক্ষমতার অন্তত দুই থেকে তিন গুণ বেশি রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, একটি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ২৭ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে ১৩৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের জনবল, ওষুধ, খাবারসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা সাধারণত নির্ধারিত শয্যাসংখ্যার ভিত্তিতে করা হয়। ফলে ২৭ জনের জায়গায় ১৩৬ জন রোগী থাকলে তাদের যথাযথভাবে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।