খেলাধুলা ডেস্ক || একদিকে ইউরোপের রাজা পিএসজি, অন্যদিকে চোট ও দল বদলে ভেঙে পড়ার ধাক্কায় নড়বড়ে অ্যাস্টন ভিলা। তবু উয়েফা সুপার কাপের মঞ্চে ইংলিশ ক্লাব ভিলার লক্ষ্য নতুন মৌসুমের শুরুতেই ইউরোপে শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রাখা।
অস্ট্রিয়ার সালসবুর্গের রেড বুল অ্যারেনায় বুধবার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হবে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী পিএসজি ও ইউরোপা লিগের চ্যাম্পিয়ন অ্যাস্টন ভিলা। ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১টায়।

পিএসজির অবশ্য নিজেদের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। গত মৌসুমে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা ফরাসি ক্লাবটির ১৫ জন খেলোয়াড় খেলেছেন সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন ফাবিয়ান রুইস, আর ফ্রান্সের সেমিফাইনাল দলে ছিলেন পিএসজির পাঁচ ফুটবলার। ফরাসি, স্প্যানিশ ও মরক্কোর খেলোয়াড়েরা ফিরেছেন সোমবার। ব্রাজিল ও পর্তুগালের খেলোয়াড়েরা ফিরেছেন ৩ আগস্ট।
ফলে দল নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগই পাননি কোচ লুইস এনরিকে। ম্যাচের আগে সেটিই খোলাখুলি স্বীকার করেছেন তিনি, ‘প্রস্তুতির কথা বললে, সার্বিক পরিস্থিতি খুব কঠিন ছিল। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা কিছুদিন আগে ফিরেছে। আগামীকাল খুব ভালো মানের ফুটবলের কথা ভাবলে, আসলে এটা কঠিন হবে। আমাদের কিছু খেলোয়াড় বলতে গেলে অনুশীলন করেইনি।’
তবে প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলেও সাফল্যের ক্ষুধায় ঘাটতি নেই এনরিকের। আগামী রোববার ফরাসি সুপার কাপের লড়াইয়ের আগে ইউরোপিয়ান সুপার কাপটিও নিজেদের করে নিতে চায় পিএসজি। এনরিকে বলেন, ‘আমরা নিজেদের জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য স্থির করেছি। মৌসুমের শুরুর চেয়ে আমরা মৌসুম শেষে সেরা অবস্থায় থাকতে চাই।’

ভাঙা দল নিয়েই পরীক্ষার সামনে অ্যাস্টন ভিলা
অ্যাস্টন ভিলার সংকট আরও গভীর। গত মৌসুমের ইউরোপা লিগজয়ী দলটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড় চলে গেছেন। ইউরি টিলেমানস যোগ দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে, মর্গ্যান রজার্স গেছেন চেলসিতে। ধারে আসা জেডন সানচো ও দগলাস লুইস ফিরে গেছেন, আর লুকা দিনিয়ে এবার যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে।
এর সঙ্গে চোটের ধাক্কাও আছে। আমাদু ওনানা ও নতুন আসা জোয়ান মানজাম্বি খেলতে পারবেন না। বিশ্বকাপের পর ছুটিতে থাকা এজরি কন্সা, অলি ওয়াটকিন্স ও এমি মার্তিনেসও ম্যাচটি মিস করবেন। অর্থাৎ গত মৌসুমের সেই ভিলা আর নেই। অথচ গত মে মাসে ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপা লিগ জেতা দলটিই এখন ইউরোপের আরেকটি শিরোপার সামনে।
উনাই এমেরির জন্য ম্যাচটি তাই শুধু ট্রফির লড়াই নয়, নতুন করে দল গড়ার পরীক্ষাও। ইউরোপা লিগে ছয় ফাইনালের পাঁচটিতে জেতা এই কোচ অবশ্য বাস্তবতা মেনেই আশাবাদী, ‘চার বছর ধরে আমি অ্যাস্টন ভিলায় আছি। ফুটবলাররা ও আমরা যেভাবে সাড়া দিচ্ছি, তাতে আমি খুশি। ফুটবলারদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমরা আরও বেশি কিছু চাই। আমরা এখানেই থামছি না।’
দল বদলে গেলেও লক্ষ্য বদলায়নি বলে মনে করেন এমেরি, ‘প্রচেষ্টায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। মাঠে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে এবং কিছু ফুটবলার বিক্রি করে আমরা আমাদের বাজেট বাড়াচ্ছি। আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, তাতে অ্যাস্টন ভিলা এখন আরও ভালো একটি ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারবে।’
গত মৌসুমের সুপার কাপে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করেছিল পিএসজি। টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-২ সমতায় ফেরে তারা। এরপর টাইব্রেকারে ৪-৩ জিতে শিরোপা ঘরে তোলে এনরিকের দল।
এবার প্রতিপক্ষ ভিন্ন, পরিস্থিতিও ভিন্ন। ভিলা হারানোর কিছু না থাকার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে পারে, আর পিএসজির সামনে থাকবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেওয়ার চাপ।