নিজস্ব প্রতিবেদক || নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার অপব্যবহার করে নিরাপত্তা হিসেবে নেওয়া ব্ল্যাঙ্ক চেকে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে আইন সংশোধন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন খুলনার বাসিন্দা শচীন্দ্র নাথ শীল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় স্কুলশিক্ষক অনন্ত তরফদার উপস্থিত ছিলেন।
শচীন্দ্র নাথ শীলের দাবি, তার স্ত্রী জ্যোৎস্না সরকার ২০১৩-১৪ সালে পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে কয়েকজন সহকর্মীর কাছ থেকে সুদে ঋণ নেন। পরে উচ্চ সুদের চাপে আরও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ধার করতে বাধ্য হন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ২০১৯ সালে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
তার ভাষ্য, প্রায় ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও কিছু ঋণদাতার কাছে নিরাপত্তা হিসেবে দেওয়া ব্ল্যাঙ্ক চেক ফেরত পাননি। পরে ওই চেকগুলোতে ইচ্ছেমতো অর্থের পরিমাণ বসিয়ে তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় একাধিক মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কয়েকজন ঋণদাতার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও কিছু ব্যক্তি নিরাপত্তা হিসেবে নেওয়া ব্ল্যাঙ্ক চেকের অপব্যবহার করে অস্বাভাবিক অঙ্কের টাকা দাবি করছেন এবং আদালতে মামলা করছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনের সুযোগ নিয়ে নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবিতে পৃথক মামলা করা হয়েছে। অথচ মামলাগুলোতে নগদ অর্থ ধার দেওয়ার দাবি করা হলেও সেই অর্থের বৈধ উৎস, আয়কর নথি বা লিখিত ঋণচুক্তির কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছাড়াই এত বড় অঙ্কের নগদ ঋণ দেওয়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
শচীন্দ্র নাথ শীল জানান, প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় আবেদন করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না পেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। তার দাবি, হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা সংশোধন করে ব্ল্যাঙ্ক চেকের অপব্যবহার বন্ধ, চেক-সংক্রান্ত মামলায় দাবিকৃত অর্থের বৈধ উৎস যাচাই বাধ্যতামূলক করা এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।