বিনোদন প্রতিবেদক || দেশের নন্দিত সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম আজ ৮০ বছর পূর্ণ করে ৮১ বছরে পা রাখলেন। বিশেষ এই দিনটি বরাবরের মতো সাদামাটাভাবে কাটাচ্ছেন গুণী এই শিল্পী।
জন্মদিনের আয়োজন প্রসঙ্গে খুরশীদ আলম বলেন, “আমার জন্মদিন সবসময় নীরবেই পালিত হয়। কখনোই ঘটা করে পালন করার অভ্যাস নেই। এবারও দিনটি খুব সাধারণভাবেই কাটবে।”
তিনি বলেন, “গানকে ঘিরেই আমার পৃথিবী। এখন স্টেজ শো আগের মতো নেই, কিন্তু গান থেকে তো দূরে থাকা যায় না। এখনও ৮১ বছর বয়সে এসে আমি যে গাইতে পারছি, সেটাই আমার বড় তৃপ্তি। আমার কোনো অতৃপ্তি নেই। মানুষের চাওয়ার শেষ নেই, কিন্তু আমি সবসময় অল্পতেই সন্তুষ্ট থেকেছি। মানুষের ভালোবাসার মতো বড় সম্পদ আর কিছু হতে পারে না। আমি সেই ভালোবাসা পেয়েছি।”
তবে জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের দুটি আয়োজন করা হয়েছে। একটি ছিল তারকা কথন, অন্যটি তাকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র।
খুরশীদ আলমের জন্য ১ আগস্ট দিনটি আরও একটি কারণে স্মরণীয়। ১৯৬৯ সালের এই দিনেই প্রথমবার চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন তিনি। বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রের ‘বন্দী পাখির মতো’ গানটি দিয়ে শুরু হয় তার চলচ্চিত্র সংগীতযাত্রা। ডা. আবু হায়দার সাজেদুর রহমানের লেখা গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন আজাদ রহমান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি খুরশীদ আলমকে। পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তার অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় ও কালজয়ী হয়ে আছে।
বর্তমান সংগীতাঙ্গনের বিষয়ে তিনি বলেন, “গানবাজনার জগতে একজনের উন্নতি আরেকজনের সহ্য না হওয়ার বিষয়টি আগেও ছিল। তবে এখনকার মতো এতটা প্রকাশ্য ছিল না।”
নিজের সময়ের কথা স্মরণ করে এই শিল্পী জানান, তখন সবাই মিলেমিশে কাজ করতেন। গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের মধ্যে ছিল পারস্পরিক আলোচনা ও সম্মান। তার মতে, সংগীত সৃষ্টিতে পরামর্শ ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৪৬ সালের ১ আগস্ট জয়পুরহাটে জন্ম নেওয়া খুরশীদ আলম তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকা আসেন। চাচা ডা. আবু হায়দার সাজেদুর রহমানের কাছে তার গানের হাতেখড়ি। শুরুতে রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে সংগীতচর্চা শুরু করলেও পরে আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।