চাঁদপুর প্রতিনিধি || গ্রাহকের টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পিন্টু দাসকে (৪৫) প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, গত শুক্রবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশের ঢাকা ও চাঁদপুরের একাধিক তদন্তকারী দল পিন্টু দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে সাম্প্রদায়িক নাশকতা বা বড় কোনো অপরাধের তথ্য পায়নি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) এ তথ্য জানান চাঁদপুর জেলা পুলিশের এ কর্মকর্তা।
মো. লুৎফর রহমান আরও বলেন, এর আগে গ্রাহকদের বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে সপরিবারে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে (৪৫) একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ শনিবার প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটে অবস্থিত ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী। তিনি গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে শহরের কালীবাড়ি মন্দিরসংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে ঘরের অধিকাংশ মালামাল নিয়ে সপরিবারে পালিয়ে যান। এরপর বিভিন্ন গ্রাহক ও ক্রেতা-বিক্রেতা পুলিশ এবং স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির কাছে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা আত্মসাতের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযোগের সূত্র ধরে আমরা পিন্টু দাসকে ধরতে অভিযান শুরু করি। গতকাল শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দলঘাট দাসপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে সপরিবারে আটক করে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আজ শনিবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার মো. মনসুর খানের ছেলে মো. রাসেল খান বাদী হয়ে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রয়োজনে তিনি এবং আরও ৫-৬ জন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে পিন্টু দাসের দোকানে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, লকেটসহ নানা অলংকার বন্ধক রেখে নগদ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করে বন্ধকি স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে পিন্টু দাস টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করতে থাকেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পিন্টু দাসের কাছে বর্তমানে তার প্রায় ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার পাওনা আছে।