কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আবারো ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নাব্য সংকট দেখিয়ে ১৫দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ-এর গাফিলতি এবং চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলার কারণে প্রায়ই সময় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ফেরির জন্য অপেক্ষা করা পণ্যবাহী পরিবহণের চালক ও শ্রমিকরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী ব্রহ্মপুত্র নদের নৌ রুটে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। উদ্বোধনের পর দেড় মাসের অধিক সময় নিয়মিত দুটি ফেরিতে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহণ পারাপার করে আসছে। প্রতি ট্রিপে ফেরি কুঞ্জলতা ৮-৯টি, বেগম সুফিয়া কামাল ১২ থেকে ১৩টি ও কদম ৮ থেকে ৯টি গাড়ি পারাপার করতো। এর মধ্যে বেগম সুফিয়া কামালও ফেরি কুঞ্জলতা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কদম ফেরি থাকলেও ব্রহ্মপুত্র নদে চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলার কারণে ১৫ দিন ধরে বন্ধ রযেছে ফেরি।এতে ভোগান্তিতে পরেছেন পণ্যবাহী পরিবহণের চালক ও শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতার কারণ দেখিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিলো ৫৪১ দিন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে অবস্থানরত ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ১৫টির মতো ট্রাক ফিরে গেছে। আমিও এসে দেখি ফেরি বন্ধ, তাই ফিরে যাচ্ছি।”
রংপুর থেকে আসা ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “সাতদিন ধরে ঘাটে আছি। শুনছি, ফেরি চলবে কিন্তু আর ফেরি চলে না। আজ যদি ফেরি না চলে তাহলে অনেক পথ ঘুরে ঢাকা যেতে হবে। ফলে আমাদের সময় নষ্ট ও ব্যয় বেশি হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “আন্ধার মানিক নামে একটি শক্তিশালী খনন করা ডেজিং মেশিন আছে। সেই মেশিন দিয়ে যদি এখানে খনন করা যায় তাহলে সহজেই ফেরি চলাচল করতে পারবে। এতে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।”
বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, “রৌমারী ঘাট ও দুইশ বিঘায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। রৌমারী ঘাট ও দুইশ বিঘা এলাকায় ড্রেজিংযের কাজ চলছে। আমি ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা বলেছেন আরো দুইটি ড্রেজিং মেশিন পাঠাবেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত পাঠাননি।”
তিনি বলেন, “তিন-চারদিন আগে রৌমারীতে গিয়েছিলাম ঘাট এলাকার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফেরি যদি এভাবে বন্ধ থাকে তাহলে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে। এটি আমাদের সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান।”
ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর)-১০ চিলমারীর সমির চন্দ্র পাল বলেন, “রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়রা বাঁধা দেওয়ায় খননের কাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু দুইশো বিঘাতে খনন চলছে। আমি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ড্রেজিংয়ের খনন কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জানতে রৌমারী ঘাট এলাকার আনিছুর রহমান ও জাহিদসহ অনেকে জানান, এখানে ড্রেজিংয়ের কাজে কেউ বাধা দেয়নি, এটা তাদের মনগরা কথা। ড্রেজিংয়ের কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে খনন হচ্ছে না। এই রুটে ফেরির বন্ধের পায়তারা চলছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তারা চান না এখানে ফেরি চলাচল করুক। যদি এই ফেরি বন্ধ হয়, তাহলে এখানকার মানুষের দুভোর্গ আরো বাড়বে।”
এবিষয়ে কুড়িগ্রাম- ৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘন্টা চালু রাখা ও জনদুর্ভোগ নিরসন করার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কাছে আবেদন করা হয়েছে। আমি আশা করছি, তারা বিষয়টি দেখবেন।”