নিজস্ব প্রতিবেদক || সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে রেকর্ডের ঝড়। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে রেকর্ড গড়লেন এই তরুণ ব্যাটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে তার অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। হৃদয়ের এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হেড কোচ ফিল সিমন্সও। তার মতে, দিনভর হৃদয় যা করেছেন, তার সবকিছুই ছিল অসাধারণ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে হৃদয়ের ইনিংসকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করেন সিমন্স।
তিনি বলেন, “শুরু থেকেই তাওহিদ বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছে। আটটি ছক্কা মেরেছে। হৃদয় যখন ভালো খেলতে শুরু করে, তখন অন্য কোনো ব্যাটারও এসে যোগ দেবে, এমন বিশ্বাস ছিল তার। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলনও দেখেছেন কোচ।” তাজুলও দারুণ খেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেষের দিকের ব্যাটারদের স্ট্রাইক দেওয়ার ক্ষেত্রেও হৃদয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন সিমন্স।
ঢাকা টেস্টে ব্যাট হাতে ভালো করতে পারেননি হৃদয়। দ্বিতীয় টেস্টে তার খেলা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। মুমিনুল হক ফিট থাকলে হয়তো একাদশে সুযোগ পেতেন না এই ব্যাটার। সেই জায়গা থেকে এমন ঐতিহাসিক ইনিংস, হৃদয়ের এই বদলে যাওয়ার রহস্য জানতে চাওয়া হয়েছিল কোচের কাছে।
কৃতিত্ব পুরোপুরি হৃদয়কেই দিয়েছেন সিমন্স। তার ভাষায়, “হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলে এই পরিবর্তনের রহস্য তাকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। কারণ, একমাত্র সে-ই এর ব্যাখ্যা দিতে পারবে। তবে, সে পুরো সময়ই ভালো ব্যাটিং করছিল। ঢাকায় কয়েকটি বেপরোয়া শট খেলেছিল, কিন্তু সেটি ছিল তার দ্বিতীয় টেস্ট। এজন্য তাকে দোষারোপ করা যায় না। আমার মনে হয়, সে দ্রুত পরিণত হচ্ছে এবং আজ সেটি দেখিয়েছে।”
হৃদয়ের পাশাপাশি তাইজুল ইসলামের অবদানের কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন সিমন্স। অষ্টম উইকেটে তাইজুলকে নিয়ে হৃদয়ের ১১৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরায়। শেষের দিকে বোলারদের ব্যাটিংয়ে টিকে থাকার মানসিকতা তৈরিতে নিয়মিত অনুশীলন করানোর কথাও জানান কোচ। তার মতে, তাইজুল ও তাসকিন ঠিক সেটিই করেছেন। ব্যাটারকে সঙ্গ দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে অনুশীলন, মাঠে তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
এদিকে, চোটের কারণে সাদমান ইসলাম যে ব্যাট করতে পারবেন না, সেটিও সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন সিমন্স। তার কাঁধের অবস্থা বেশ গুরুতর। আগের দিন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল তাকে। হাড়ে চিড় ধরেছে বলে জানান বাংলাদেশ কোচ। ফলে, প্রয়োজন হলেও তাকে ব্যাটিংয়ে নামানোর সুযোগ ছিল না। সাদমানের অনুপস্থিতিতে অমিত হাসানকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অনুশীলনে পারফরম্যান্স ও নির্দিষ্ট সময়ের চাপ সামলানোর সক্ষমতা বিবেচনায়।
সিলেট টেস্টে হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংস শুধু বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে ম্যাচের গতিপথও। প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ৩০ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। এখন ম্যাচের চতুর্থ দিনের দিকে তাকিয়ে সিমন্সের দল। পিচ এখনও ভালো আছে বলে মনে করছেন তিনি। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যের কথা না জানিয়ে পরিস্থিতি বুঝে এগোনোর কথা বলেছেন বাংলাদেশ কোচ।