আন্তর্জাতিক ডেস্ক || ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক- সব ধরনের বিকল্প উন্মুক্ত রাখবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তৈরি হওয়া বাধা ও স্থবিরতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভ্যান্স মূলত দুটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রথমত, ইরানিরা খুবই জটিল মানসিকতার মানুষ। দ্বিতীয়ত, তাদের শাসনব্যবস্থা বেশ বিভক্ত।”
তিনি আরো বলেন, “তাদের ক্ষমতার ভেতরে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা যুদ্ধের অবসান চান; আবার এমন কিছু উগ্র চরমপন্থি লোকও আছেন যারা চান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে। এ ধরনের একটি পরিস্থিতি সামলে আমেরিকান জনগণ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ইতিবাচক ফলাফল বের করে আনাই আমাদের মূল কাজ।”
সংঘাত সমাধানের আশা প্রকাশ করলেও পথটি সহজ হবে না বলে ইঙ্গিত দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বেশ জটিল হতে পারে এবং একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে- তবে আমরা সফল হবই।” একই সঙ্গে এই সংকটের সমাধান হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ‘কমে আসবে এবং একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে থাকবে’ বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেডি ভ্যান্স দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তবে এই বিষয়ের একটি সঠিক ও কাঙ্ক্ষিত মীমাংসা নিশ্চিত করতে আমাদের কাছে থাকা সব পথ বা হাতিয়ার- সামরিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক- সবই আমরা কাজে লাগাব।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের জের ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য সামনে এলো।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা থাকলেও, তিনি সামরিক বলপ্রয়োগের চেয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোকেই বেশি প্রাধান্য দিতে চান।
বুধবার (৫ আগস্ট) লাস ভেগাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমি একটি সমঝোতায় পৌঁছাতেই বেশি আগ্রহী, কারণ আমি সাধারণ মানুষের জীবনহানি দেখতে চাই না।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি খসড়া রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনাও শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের গ্যারান্টি সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে সেই আলোচনা থমকে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে ওঠে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। জবাবে তেহরানও জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ একাধিক আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।