1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের কেন যোগদান - দৈনিক প্রথম ডাক
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
বিমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে রোম থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন গোপালগঞ্জে পাঁচ দিনে আ.লীগের ২০০ নেতাকর্মীর পদত্যাগ না.গঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে শিশু মারুফের মৃত্যু যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মীর ৪৮ দিন পর মৃত্যু তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক একটানে উঠে এলো ২ হাজার ২০০ ইলিশ, সাড়ে ৪৮ লাখে বিক্রি জুলাইযোদ্ধাদের সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ক্যাফে আমাজনের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর উদ্বোধন

সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের কেন যোগদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নিরাপত্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এমন এক অস্থির পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়া দেশের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা— তিন ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

লোহিত সাগরে সৌদি ট্রানজিটের ওপর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ঘোষিত অবরোধ রিয়াদের স্থানীয় জলপথ সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যুদ্ধকালীন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাব এল মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের হামলা গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প বাণিজ্য পথকে ব্যাহত করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মিলিত সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার একটি কাঠামো হিসেবে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। যেখানে পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের নাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ। অন্য বিকল্প রুট লোহিত সাগরেও মাঝেমধ্যে হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।

এমন অস্থির পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় গঠিত নৌ সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের তাৎপর্য কী? সিদ্ধান্তটি কৌশলগত বলেই মত বিশ্লেষকদের। এর পেছনে জ্বালানি নিরাপত্তা, শ্রমবাজার, বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যের জটিল হিসাবও জড়িত বলে তারা মনে করেন।

সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষায় বহুজাতিক জোট গঠনের এই সিদ্ধান্ত বেশ কৌশলি। এখানে লাভের পাশাপাশি ঝুঁকিও দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে।

তাদের মতে, এই জোটে যুক্ত হলে একদিকে যেমন ইরান এবং ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠির বিরোধিতার সম্মুখিন হতে হবে। অন্যদিকে এখান থেকে বিরত থাকলে সৌদি আরবের সঙ্গেও সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মতো বিষয়ও রয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে বৈঠকে ৫১ জন আমন্ত্রিতের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান প্রতিবন্ধকতা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ রক্ষা করতে এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পথ সুরক্ষিত করার জন্য সম্মিলিত সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছেন।

তারা আরো বলেছেন, এই জোটটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো রাষ্ট্র, জোট বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে লক্ষ্য করে গঠিত নয়।

কেন এই জোট গঠন
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকট।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাহাজে হামলা ও নৌ নিরাপত্তার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হামলার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট— হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দেব প্রাণালি— বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত জোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে— বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা,

গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো সুরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ নৌ মহড়া, সমন্বিত টহল, সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের পথ নিরাপদ রাখা।
অর্থাৎ, জোটটির ঘোষিত লক্ষ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান নয়; বরং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

কেন বাব আল-মান্দেব এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাব আল-মান্দেব সমুদ্র প্রণালিটি উত্তর-পূর্বে ইয়েমেন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে হর্ন অব আফ্রিকার দেশ জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। এই সামুদ্রিক জলপথটি মূলত এডেন উপসাগরের মাধ্যমে লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

প্রণালিটি এর সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২৯ কিলোমিটার বা ১৮ মাইল চওড়া। এই সংকীর্ণতার কারণে এখানে জাহাজ প্রবেশ করা এবং বের হওয়ার জন্য মাত্র দুটি লেন রয়েছে।

কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট। এটি লোহিত সাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার মাত্র দুটি জলপথের একটি (অন্যটি হলো সুয়েজ খাল)। বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। চীন, ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে কনটেইনার জাহাজে পণ্য পাঠানোর জন্য এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি একটি লাইফলাইন। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৪১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। প্রতিদিন এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যায়, যার বড় অংশই আসে সৌদি আরব থেকে।

হরমুজ ও বাব আল-মানদেব উভয়ই বন্ধ হলে কী ঘটবে?
হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি— উভয় জলপথ একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন’ তৈরি হবে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথটি বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে বাব আল-মান্দেব ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই দুটি কৌশলগত জলপথ একসঙ্গে বন্ধ হলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ (এক-চতুর্থাংশ) সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।

জ্বালানি সরবরাহ এতটা কমে গেলে বিশ্বে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দেবে, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মক চাপের মুখে ফেলবে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা চরমভাবে কমে যাবে এবং জ্বালানির দাম অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পাবে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চীন, ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে কনটেইনার জাহাজে পণ্য যায়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ। দুটি প্রণালি একসঙ্গে বন্ধ থাকলে ইউরোপের দিকের বৈশ্বিক বাণিজ্য কার্যত পঙ্গু বা বিকল হয়ে পড়বে।

এশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, ভারত তার অপরিশোধিত তেলের অর্ধেকের বেশি বাব আল-মানদেব দিয়ে এবং বাকি প্রায় অর্ধেক হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করে। দুটি পথ বন্ধ হলে ভারতের মতো দেশগুলোর সামনে বিকল্প প্রায় কোনো পথই থাকবে না। অন্যান্য এশীয় দেশগুলোরও আমদানি খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

তেল, গ্যাস, সার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারবে না। এর পাশাপাশি জাহাজভাড়া এবং বিমা খরচ ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে যাবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে কলকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর এবং পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রভাব পড়বে এবং বিশ্বব্যাপী চরম মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি নৌরুট একসঙ্গে অবরুদ্ধ হলে তা কেবল জাহাজ চলাচলের ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দেবে।

বাংলাদেশের জন্য সৌদি জোটে যোগদানের কারণ কী?
বাংলাদেশের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের পেছনে কয়েকটি কৌশলগত কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, সৌদি আরব বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার।

লাখ লাখ বাংলাদেশি সেখানে কাজ করেন। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতি ও প্রবাসী কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় অংশ নেওয়া দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো শ্রমবাজার। ২৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি সেখানে কাজ করেন। ফলে সৌদির কোনো কৌশলগত অনুরোধে সাড়া না দিলে ভিসা, কোটা বা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, “সৌদির সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অনুরোধে সাড়া দিতে হচ্ছে।”

বাংলাদেশের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর। জ্বালানি, কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অস্থিতিশীল হলে শুধু ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্য নয়, বাংলাদেশের মতো দেশও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ নিশ্চিত করা সরাসরি অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত।

তাছাড়া বহুজাতিক সামুদ্রিক সহযোগিতায় অংশ নিলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ নৌ মহড়া, জাহাজ সুরক্ষা, সামুদ্রিক যোগাযোগ, সাবমেরিন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক কৌশল, আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের মতো দেশের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নৌ সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। লোহিত সাগরের অপর পাশে রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশ। বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার, জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ, বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

বহুজাতিক একটি উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

তবে ঝুঁকিও কম নয়
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।

ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ইরান কীভাবে দেখবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

যদিও জোটের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এটি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে গঠিত নয় এবং সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক—তবুও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে কোনো সামরিক জোটকে ঘিরে ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হওয়া অসম্ভব নয়।

সামরিক নিরাপত্তা বড় ঝুঁকি
এই জোটের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নৌ সদস্যদের যদি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাহলে তাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আসবে।

যদি হুথি বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এই জোটকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে বাংলাদেশি নৌ সদস্যরাও সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ কী ধরনের ভূমিকা পালন করবে? শুধু টহল, নাকি সক্রিয় সামরিক অভিযান? কোনো হামলা হলে বাংলাদেশের সদস্যদের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে?

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT