আন্তর্জাতিক ডেস্ক || আফগানিস্তানের তালেবানরা আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে তাদের বিচ্ছিন্নতা দূর করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে। তালেবানদের ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ বছর পর, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশ এই কট্টর ইসলামপন্থীদের সাথে সম্পর্ক নবায়ন করছে বা কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। শনিবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে তালেবান বিরোধী আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা করছেন, বিভিন্ন দেশের এই পৃথক পৃথক যোগাযোগ যেকোনো কূটনৈতিক ছাড়ের বিনিময়ে মানবাধিকারের উন্নতির জন্য ‘সুসংহত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ’ দাবিগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ভারত, কাতার, চীন, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র সম্প্রতি তালেবান কর্মকর্তাদের স্বাগত জানিয়েছে অথবা যোগাযোগের নতুন পথ খুলেছে। রাশিয়া এক বছরেরও বেশি সময় আগে কাবুলের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। দেশটি গত মাসে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। জুনে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্রাসেলসে তালেবান কর্মকর্তাদের সাথে আফগানিস্তানে ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশও কাবুলের সাথে তাদের নিজস্ব যোগাযোগ আরো গভীর করেছে।
দিল্লির অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের শিবম শেখাওয়াত বলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে একটি বিবর্তন ঘটেছে। ইসলামিক আমিরাত এখন একটি আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। তারা উপলব্ধি করেছে যে এই মুহূর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য তারা অপরিহার্য এবং এমনকি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও তারা কীভাবে যুক্ত হতে হবে তা চিহ্নিত করেছে।”
তালেবানরা যেকোনো ধরনের যোগাযোগকে একটি কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখে এবং তারা এটিকে শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়ার একটি চিহ্ন হিসেবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর অনানুষ্ঠানিক বা ‘কার্যত’ স্বীকৃতির দিকে ঠেলে দেওয়া কঠোর বিচ্ছিন্নতার নীতি এখন ভেঙে পড়ছে। কিছু পশ্চিমা ভাষ্যকার আরো বেশি দেশকে এই শাসনব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যরা আরো নিবিড় ‘গোপন’ যোগাযোগ চান।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আফগানিস্তান গবেষক ফেরেশতা আব্বাসি বলেন, “আমরা কোনো ধরনের যোগাযোগের বিরুদ্ধে নই… চলমান মানবিক সংকট নিরসনে সাহায্য সংস্থাগুলোর জন্য হলেও যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু এই যোগাযোগ এবং যে আলোচনাগুলো হচ্ছে তার চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”