1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
পর্যটক ও জেলেদের জন্য খুলছে সুন্দরবন - দৈনিক প্রথম ডাক
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ শুরু হচ্ছে ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জবাবে জর্ডান-আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা মক্কা প্যাক্ট নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি: আসিফ তিন জেলায় উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রশাসনের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২৫ উন্নয়ন প্রকল্প স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নেই বিরোধী দল, সভাপতি পদে সমঝোতা হয়নি ব্যাটারি কোম্পানির ৩১৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি পর্যটক ও জেলেদের জন্য খুলছে সুন্দরবন আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ বিক্রি করে দেওয়া সেই মুসা ফিরলো দাদা-দাদির কোলে

পর্যটক ও জেলেদের জন্য খুলছে সুন্দরবন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
পর্যটকদের নিয়ে সুন্দরবনে যেতে প্রস্তুত করা হচ্ছে দুটি ট্রলার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি || তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন। ফলে বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রতিটি স্পটে যেতে পারবেন তারা। একই সঙ্গে জেলেরা মাছ ধরতে পারবেন সুন্দরবনের নদী ও খালে। তবে অভয়ারণ্যে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বহাল থাকবে।

সুন্দরবন খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে বন বিভাগ। বৈধভাবে জেলে-বাওয়ালিদের পাস-পারমিট দেওয়া, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বনজীবীদের প্রবেশ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় নজরদারি জোরদারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

সুন্দরবনে সরেজমিনে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে ভেজা কেওড়া আর সুন্দরী গাছ। পাতার ফাঁকে ছড়িয়ে থাকা রোদ যেন এক রূপকথার জগত তৈরি করেছে। নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে চারপাশ মুখরিত। কোলাহলমুক্ত এই নিস্তব্ধতায় বনের বাতাস যেন প্রশান্তি বয়ে আনে।

তিন মাসের নিস্তব্ধতা শেষে বনে এখন দৃশ্যমান সুন্দরবনের সেই নতুন রূপ। মানুষের অনুপস্থিতি আর প্রকৃতির সযত্ন ছোঁয়ায় ফিরে এসেছে তার আসল যৌবন। পর্যটক আর বনজীবীদের পদচারণায় মুখর হওয়ার প্রাক্কালে সুন্দরবন এখন রূপের দ্যুতি ছড়াচ্ছে চারদিকে। সবুজের গভীর চাদর ভেদ করে বয়ে চলা নদীর বাঁকে বাঁকে এখন অন্যরকম শিহরণ। মানুষের কোলাহলহীন এই সময়ে সুন্দরবন যেন সেজেছে পরম যত্নে।

প্রজনন মৌসুমের কারণে জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে থাকে নিষেধাজ্ঞা। জেলে-বাওয়ালি, মৌয়াল কিংবা পর্যটকের পদচারণা ছিল না বনের গভীরে। ফলে নিজের মতো করে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এই বন। এই সময়ে বনের চরে হরিণের দল নির্ভয়ে ঘাস খেয়েছে। খালের পাড়ে রোদ পোহাতে দেখা গেছে হিংস্র কুমিরকে। গাছের ডালে ডালে নাম না জানা পাখির কিচিরমিচির আর বনের গহীনে বাঘের বিচরণ, সব মিলিয়ে যেন ফিরে এসেছে বনের নিজস্ব ছন্দ।

নদী আর খালেও বেড়েছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। জোয়ার-ভাটার টানে জলজ প্রাণের অবাধ বিচরণ আর বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজে সুন্দরবন এখন আরও সতেজ, আরও প্রাণবন্ত। শুধু প্রাণীকুল নয়, উদ্ভিদের জগতেও লেগেছে সজীবতার ছোঁয়া। সুন্দরী, গেওয়া, গরান আর গোলপাতার প্রতিটি পাতায় যেন জীবনের নতুন গান। বৃষ্টির জলে ধুয়ে-মুছে সুন্দরবনের প্রতিটি কোণ এখন নতুন সাজে সেজেছে।

বন বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপে বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি ও বিচরণ ক্ষেত্রগুলো সমৃদ্ধ হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট- এই তিন মাসে বনরক্ষীরা সুন্দরবনে ৬৩টি অভিযান চালিয়ে বন অপরাধের ঘটনায় ৩৯টি মামলা দায়ের করেন। এ সময় ৩৭ জনকে আটক, ১২ টি ট্রলার, ৫০টি নৌকা, ৫৫টি মাছ ধরার জাল, ২৮ বোতল, দুই লিটার তরল বিষ ও ৬ হাজার ২৯০ টি হরিণ শিকারী ফাঁদ জব্দ করা হয়। এছাড়া ১৮৬ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ৭৩৬ কেজি কাকড়া, ১ হাজার ৫৬২টি চারু, ২ হাজারটি বর্শি, ১৭০ কজি মধুসহ দুই বস্তা ৫ কেজি শুঁটকি মাছ উদ্ধার করা হয়। এবারের তুলনায় গত বছর (২০২৫ সাল) একই সময়ে (জুন-আগস্ট) বেশি অপরাধ সংঘঠিত হয়েছিল।

জেলেরা জানান, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর,বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা এলাকার জেলে-বাওয়ালি পরিবার গুলো পড়েছিল চরম অর্থনৈতিক সংকটে। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। কেউ মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়েছেন, আবার কেউ নির্ভর করেছেন এনজিওর ঋণের ওপর।

সাতক্ষীরার নীলডুমুর গ্রামের জেলে রিপন গাজী বলেন, “শুধু পাস দিয়ে বনে প্রবেশের সুযোগ করে দিলেই হবে না; বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুন্দরবনের গভীরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের নিয়মিত যৌথ টহল জোরদার করতে হবে।”

সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালীনি ঘাটের ট্রলার মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনমাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ভ্রমণের অনুমতি মেলায় বনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ ও বোট মালিক-চালকরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে এনেছেন। তারা পর্যটকদের বুকিং নিতে শুরু করেছেন।”

সুন্দরবনের বিশেষ আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার

অপর ট্রলার মালিক রাকিবুল হোসেন বলেন, “সুন্দরবন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে পর্যটন শিল্পকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় বনবিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার ও প্রযুক্তিনির্ভর। দুর্গম বনাঞ্চলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও স্মার্ট পেট্রোলিং (টহল) জোরদার করার পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নিবিড় নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে হরিণ শিকারি ও বিষপ্রয়োগকারী অসাধু চক্রের তৎপরতা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি জানান, নদী-খালের মাছ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবি হরিণসহ সকল প্রাণিদের অবাধ বিচরণ ও প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ এবং মানুষের আনাগোনা কমে আসায় নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। কৃত্রিম শব্দদূষণ, অতিরিক্ত পর্যটন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ কমে যাওয়ায় বনের গহীন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর এক অভাবনীয় রূপান্তর।

বনবিভাগের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসের স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দীন বলেন, “জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপদে প্রবেশ নিশ্চিত, পাস প্রদান এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে দাপ্তরিক ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।”

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান বলেন, “ইতোমধ্যে বনজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বনবিভাগ থেকে বিএলসি পাস (অনুমতিপত্র) নবায়ন করেছেন। সুন্দরবনের অভয়ারণ্য ঘোষিত এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বহাল থাকবে।”

সুন্দরবনে মৎস্যজীবীদের নৌকা

সুন্দরবনের পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্লানিংয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের সব নদী-খালে মাছ আহরণ বন্ধ থাকে। পরে এ সময় একমাস বাড়িয়ে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করে বন মন্ত্রণালয়। এই তিন মাস মাছ আহরণ বন্ধের পাশাপাশি পর্যটক প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়। সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা ছাড়াও এই সুবিধা পাবেন ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT