1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
এনসিপিকে কি বিএনপি প্রতিপক্ষ মনে করছে? - দৈনিক প্রথম ডাক
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
নোয়াখালীতে সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের বৃক্ষরোপন কর্মসূচী উদ্ভোধন দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত লাশ কুষ্টিয়া-১ আসনের এমপির হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক, আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান সিলেট-জাফলং রেলপথের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চূড়ান্ত এক মাসে গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও শক্তিশালী হবে: নাহিদ ইসলাম ৮০ পেরিয়ে কিংবদন্তি খুরশীদ আলম কীর্তন শেষে ফেরার পথে নৌকাডুবিতে একজনের মৃত্যু গোরস্থানে চাঁদা বকেয়া থাকায় আটকে গেল নাসির উদ্দিনের দাফন নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহত কালিন্দী নদীতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ মিলল ইছামতীতে

এনসিপিকে কি বিএনপি প্রতিপক্ষ মনে করছে?

প্রথম ডাক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে
বিএনপি ও এনসিপির লগো।

প্রথম ডাক ডেস্ক || জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়ে থাকেনি। দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা, পাল্টা কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ, বাধা এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে। সেই বাস্তবতা ঘিরেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন বিএনপি কি এনসিপিকে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে?

এই প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর এখনো কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়নি। তবে, গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ, দুই দলের নেতাদের বক্তব্য এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে- বিএনপি ও এনসিপির সম্পর্ক দ্রুত সহযোগিতার ক্ষেত্র থেকে প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে।

জুলাইজুড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে একের পর এক উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। কোথাও গাড়িবহরে হামলা, কোথাও কর্মসূচিতে বাধা, কোথাও ককটেল বিস্ফোরণ, আবার কোথাও নেতাদের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করা হয়। এসব ঘটনার জন্য এনসিপি প্রকাশ্যে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করলেও বিএনপি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, রাজনৈতিক সুবিধা নিতে তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অভিযোগ ও প্রত্যাখ্যানের এই রাজনীতির মধ্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এনসিপি এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত শক্তি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সময় হামলা বা বাধার ঘটনা অনেক ক্ষেত্রেই উল্টো সেই দলটির পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এনসিপির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি হামলার ঘটনার পর দলটির রাজনৈতিক বার্তার চেয়ে হামলার ঘটনাই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচিত হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে দলটির দৃশ্যমানতা এবং পরিচিতি দ্রুত বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় দেওয়া এক বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‍‍‍‍নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, তারেক রহমানকে কয়েকটা পথ পরিহার করতে হবে। এক নম্বর চাঁদাবাজি, দুই নম্বর সন্ত্রাস, তিন নম্বর দখলদারি।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, যদি প্রতিহত করতে না পারেন বলেন, বাবারা আর চালাতে পারি না, পদত্যাগ দিয়ে দেন, আমরা ক্ষমতা চালাইতে পারব।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই মনে করছি বিএনপি আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে। কারণ, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির উত্থান এবং জনগণের মধ্যে যে সাড়া তৈরি হয়েছে, সেটি তাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে উপজেলা থেকে জেলা প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমর্থন আমরা দেখেছি। জনগণের এই ইতিবাচক সাড়া প্রমাণ করে মানুষ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি খুঁজছে। এই বাস্তবতাই বিএনপিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।”

সরোয়ার তুষার বলেন, “আমরা মনে করি, সেই উদ্বেগ থেকেই বিভিন্ন স্থানে আমাদের কর্মসূচিতে হামলা, বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে যদি হামলা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নেওয়া হয়, তাহলে সেটিই প্রমাণ করে তারা এনসিপির উত্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এটিকে ঠেকিয়ে দিতে চাইছে। তবে এসব হামলা-ভয়ভীতি দিয়ে জনগণের সমর্থন বা আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না।”

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব প্রথম ডাককে বলেন, “এনসিপির রাজনীতি কাউকে প্রধান প্রতিপক্ষ বানানোর রাজনীতি নয়। আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করি। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, তাদের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সেটি রাজনৈতিক। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায়। জনগণের সামনে একটি জবাবদিহিমূলক, সংস্কারমুখী ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক বিকল্প তুলে ধরা। আমরা জনগণের আস্থা অর্জনের রাজনীতি করতে চাই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন প্রথম ডাককে বলেন, “বিএনপি আমাদের প্রতিপক্ষ কি না এই প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা কাদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করছি। এনসিপি কোনো রাজনৈতিক দলকে শত্রু হিসেবে দেখে না; আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতির বিরুদ্ধে। তবে, বাস্তবতা হলো দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বাধা দেন, হামলা চালান বা রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করেন, তাহলে সেই আচরণের রাজনৈতিক জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। জনগণই নির্ধারণ করবে কে গণতান্ত্রিক আচরণ করছে আর কে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক অধিকার অস্বীকার করছে।”

তিনি বলেন, “এনসিপি বিশ্বাস করে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে জনগণের সমর্থন, নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে। হামলা, ভয়ভীতি বা বাধা সৃষ্টি করে নয়। আমরা কারো শত্রু হতে চাই না, কিন্তু জনগণের স্বার্থবিরোধী রাজনীতি ও গণতন্ত্রবিরোধী আচরণের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে থাকব।”

এর আগে, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‍“কথা বলতে গেলে দমন-পীড়ন করা, আক্রমণ করা কিংবা নিরাপত্তার অজুহাতে বাধা দেওয়া এগুলো আর হতে দেওয়া হবে না। এগুলো বিগত আমলের পুরোনো কৌশল; শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ, শেখ হাসিনাকে কীভাবে হটানো হয়েছে, তা এ দেশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও জানে।”

তিনি বলেন, “প্রশাসন থেকে দেওয়া বিভিন্ন কড়া নির্দেশিকা বন্ধ করা উচিত। আমি কথা বলছি; আমার কথা পছন্দ না হলে আপনারা পাল্টা সমাবেশ করে কথা বলুন এটাই গণতন্ত্র। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই ঠিক করবে, তারা কোন সমাবেশে যাবে বা কাকে সমর্থন দেবে। কথা বলতে গেলে দমন-পীড়ন করা, আক্রমণ করা কিংবা নিরাপত্তার অজুহাতে বাধা দেওয়া এগুলো আর হতে দেওয়া হবে না।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এক আলোচনা সভায় এনসিপির নেতাকর্মী সমালোচনা করে বলেন, “বাকস্বাধীনতা মানে অবারিত স্বাধীনতা নয়। কাউকে ম্যালাইন করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বা সম্মানহানি করা গণতন্ত্রের শিক্ষা নয়। ভাষা ও বক্তব্যে সংযত হওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “রাজনীতির মাঠে গালিগালাজ বা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। অহেতুক মানুষকে উত্তেজিত করে দেশকে বিপদগ্রস্ত করা এবং স্বৈরাচারের রাস্তাকে খুলে দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র চলছে, বিএনপি বা বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবিত থাকা অবস্থায় তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেবে না।”

এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা কেন তৈরি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রথম ডাককে বলেন, “এই জায়গায় সবারই একটু ধৈর্যশীল হওয়া উচিত। আর কথাবার্তায় সহনশীল হওয়া উচিত।”

“রাজনীতিতে বিরোধীতা থাকবে, সমালোচনা থাকবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে তরুণদের দল বেশি অশ্লীল ভাবে কথাবার্তা বলছে। তারা সংযত করতে পারছে না”, যোগ করেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রথম ডাককে বলেন, “উত্তেজনা কারো দিক থেকেই করা ঠিক না, জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও সংযত হতে হবে। তাদের কথাবার্তায় সমালোচনা করবে তীব্রভাবে সমালোচনা করুক কিন্তু অশ্রাব্য কথা, মিথ্যা কথা বলা যাবে না। আবার এটাকে নিয়ে কোনো সংঘাতও তৈরি করা যাবে না।”

তিনি বলেন, “এটার প্রথম উস্কানি বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পাচ্ছি তাদের পক্ষ থেকে আসছে। তাদের এটা পরিহার করতে হবে। শান্তি বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক যে আলোচনা সমালোচনা পাল্টাপাল্টি কথা, সেটা সরকারের যদি ভুল ত্রুটি হয় সে ভুল ত্রুটিগুলো তারা তুলে ধরতে পারে এবং সে ব্যাপারে সমালোচনা করতে পারে। তীব্রভাবে কুরুচিপূর্ণ কথা বললে তো সবার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।”

বিএনপি এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে প্রধান প্রতিক্ষ হিসেবে দেখে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “এনসিপিকে আমরা কখনোই প্রতিপক্ষ মনে করি না। তারা একটি সমমর্যাদাসম্পন্ন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি দল সরকার পরিচালনা করে, আরেকটি দল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক কাঠামো।”

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দেশের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে যেসব বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে, সেসব ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর একসঙ্গে কথা বলা এবং কাজ করাও প্রয়োজন। আমরা সেটাই করে যাচ্ছি। জুলাই-আগস্ট ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি সবাই একসঙ্গে পালন করছি। এটি জাতীয় ঐকমত্যেরই বহিঃপ্রকাশ।”

সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারকে সমর্থন করি না। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে, ছাত্রজীবন থেকে আমরা কখনোই ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কটূক্তি করিনি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও আমরা তার কর্মকাণ্ড, ফ্যাসিবাদী শাসন ও বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছি। কিন্তু কখনোই ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য বা কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করিনি।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবদুল লতিফ মাসুম মনে করেন, বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আচরণে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে দলটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে একটি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে।

প্রথম ডাককে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে মতপার্থক্যের মোকাবিলা হওয়া উচিত রাজনৈতিকভাবেই, হামলা কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে নয়। অতীতে যেভাবে রাজনৈতিক সহিংসতার সমালোচনা করা হয়েছে, একইভাবে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।”

ড. মাসুমের মতে, বিএনপির উচিত নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া এবং দেশে সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু তার মোকাবিলা হতে হবে রাজনৈতিকভাবে।

তিনি বলেন, “এনসিপি ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠতে পারে।” বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেক মানুষ দলটিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তার পর্যবেক্ষণ, বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে অনেকের কাছেই এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে দলটি এনসিপিকে নিজেদের অন্যতম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT