নিজস্ব প্রতিবেদক || ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেছেন ৭ বা তার বেশি মাত্রায় ঢাকায় ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিস নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সময়ে অসংখ্য স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবাজার ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্যদের জন্য দুইদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ফায়ার সার্ভিস।
ডিজি বলেন, যদি ৭ মাত্রা বা তার বেশি ভূমিকম্প ঢাকায় আঘাত হানে তাহলে ফায়ার সার্ভিস নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সময়ে অসংখ্য স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১০০টি স্টেশনকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় এনেছে। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এসব স্টেশন থেকে জনবল ও সরঞ্জাম দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হবে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি ড্রাই এক্সারসাইজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছোট আকারের উদ্ধার সরঞ্জাম ও ফায়ার ফাইটার পরিবহনের বিষয়েও কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ফায়ার সার্ভিস নয়, দুর্যোগকালে গণমাধ্যমেরও আগাম প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যম নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে পরিকল্পনা করলে সরকারের কাছে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছানো সহজ হবে এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ধ্বসে পড়া ভবনের ধরণ অনুযায়ী উদ্ধার কার্যক্রমও ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই রিপোর্টিংয়ের সময় নিজেদের নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্প-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, লিফট ব্যবহার না করা, জরুরি ওষুধ, টর্চলাইট ও বাঁশিসহ একটি জরুরি কিট প্রস্তুত রাখার মতো বিষয়গুলো নিয়মিত প্রচার করা প্রয়োজন।
দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল ও টানেলের মতো নতুন অবকাঠামো ঘিরে বিশেষ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি জরুরি সেবাদানকারী বাহিনী। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিসকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। একইসঙ্গে দুর্যোগকালীন সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবাদমাধ্যমকে অংশীদার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।