1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
আমার বাবাকে নিয়েও নোংরা কথা বলতে ছাড়েননি: শ্রীলেখা - দৈনিক প্রথম ডাক
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

আমার বাবাকে নিয়েও নোংরা কথা বলতে ছাড়েননি: শ্রীলেখা

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে
বাবার সঙ্গে শ্রীলেখা মিত্র

বিনোদন ডেস্ক || ভারতে তেলাপোকাদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়েছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘কুরুচিকর’ ছবি ব্যবহার করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ ও মামলা দায়ের হয়েছে।

এ বিষয়কে কেন্দ্র করে হত্যা-ধর্ষণের মতো হুমকিও পেয়েছেন বলে অভিযোগ শ্রীলেখা মিত্রর। সম্প্রতি তার বাবাকে নিয়েও নোংরা মন্তব্য করছেন বলে জানিয়েছেন। মানুষের এমন আচরণ, বাবার প্রতি তার নিরেট-নির্মল ভালোবাসায় গভীর আঘাত করেছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “সম্প্রতি যারা আমার বাবাকে নিয়েও নোংরা কথা বলতে ছাড়েননি, তাদের উদ্দেশে দু’টো কথা বলি। আমার বাবার মতো বাবা যদি আপনারা পেতেন, তাহলে হয়তো আপনাদের তিন পুরুষেরও জীবন ভরে যেত তার শিক্ষা, তার আদর্শ আর তার মেরুদণ্ডের গল্প বলতে। আমার বাবা আমাকে সঠিকভাবে বড় করেছিলেন। ঠিককে ঠিক আর ভুলকে ভুল বলার সাহসটা আমি বাবার কাছ থেকেই পেয়েছি।”

শ্রীলেখা মিত্র

শ্রীলেখার বাবা সন্তোষ মিত্র জমিদার বংশের সন্তান হলেও নিজেই নিজের নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেন। অভিনেত্রী বলেন, “আমার বাবা ছিলেন একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ। জমিদার বংশে জন্ম হয়েছিল তার। কিন্তু সেই পরিচয়কে আঁকড়ে বসে থাকেননি। তিনি ছিলেন সিপিআই(এম)-এর পার্টি মেম্বার। ধর্মের নামে বিভাজন, হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা, দেশভাগ, বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসার অভিজ্ঞতা—এসবের মধ্য দিয়েও মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে শিখিয়েছিলেন তিনি। এটাই আমার বাবা। আমার বাবা তার মেয়েকে নিয়ে ভীষণ, ভীষণ গর্বিত ছিলেন।”

সততা ও সাহস বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন শ্রীলেখা। তার ভাষায়, “আমার বাবা আত্মনির্ভরশীল। আমিও আত্মনির্ভরশীল। কোনো বিদেশি ফান্ড আমাকে কথা বলার জন্য স্পন্সর করে না। কেউ আমাকে ভাড়া করে সাহস দেয় না। সঠিক সময়ে, সঠিক কথাটা বলার যে সততা এবং সাহস—সেটা আমি আমার বাবার কাছ থেকেই পেয়েছি। এত কিছু বলার হয়তো কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তবু বললাম। কারণ সামনে আমার জন্মদিন।”

মাথা উঁচু করে বাঁচার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “যারা আমাকে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তারা দু’জনেই আজ আর নেই। মা চলে গিয়েছিলেন বাবার আগে। বাবার একটা চিন্তা ছিল—‘আমি চলে গেলে আমার আদরের টুম্পার কী হবে?’ বাবা, তোমার টুম্পা বেঁচে আছে। আর যতদিন বাঁচবে, মাথা উঁচু করে বাঁচবে। কোনো শাসানি, ধমকানি, হুমকি, ভয়—কোনোটার কাছে মাথা নোয়াবে না। লোভ, বিলাসিতা, আর সহজ জীবনের সেই লোভনীয় হাতছানিগুলো অনেক আগেই পিছনে ফেলে এসেছি। সহজ হলে অনেক আগেই সহজ পথটা বেছে নিতাম।”

বাবার সঙ্গে বধূসাজে শ্রীলেখা মিত্র

কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শ্রীলেখা। এসব ছবির পেছনের গল্প বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, “এই ছবিগুলো ২০২১ সালের। ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা’—মায়ানগরের জন্য বিদেশে যাওয়ার সময়কার। দীর্ঘ সময় পরে একটি বাংলা সিনেমা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। তখনও আমাকে আটকানোর, আমাকে যেতে না দেওয়ার নানা চেষ্টা হয়েছিল। তবে আমি গিয়েছিলাম। নিজের পয়সায় গিয়েছিলাম।”

বাবাকে নিয়ে আফসোসের কথা জানিয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “ইতালিতে ঢোকার আগে, তৎকালীন কোভিড বিধির কারণে তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য যে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের নিয়ম ছিল, তার অংশ হিসেবে আমাকে ইউরোপের একটি শহরে থাকতে হয়েছিল। আমি বেছে নিয়েছিলাম সুইজারল্যান্ড। ২০২১ সালের জন্মদিনে শাড়ি পরে সুইজারল্যান্ডে বেরিয়েছিলাম। প্রচুর প্রশংসা পেয়েছিলাম। ছবি, ভিডিও—সব জমিয়ে রেখেছিলাম। ভাবছিলাম, দেশে ফিরে বাবাকে এক এক করে দেখাব। তার মেয়ের কাজ দেখে, তার মেয়ের আনন্দ দেখে, তার মেয়ের অর্জন দেখে বাবা আনন্দিত হবে। সেই সুযোগ আর হলো না। ফিরে এসে বাবার সঙ্গে আর দেখা হয়নি। বাবা অসুস্থ হলেন। তারপর একদিন চুপচাপ চলে গেলেন।”

শ্রীলেখা মিত্র

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “তাই আজ আমার বাবাকে নিয়ে কথা বলুন। আমাকে নিয়েও কথা বলুন। কিন্তু মনে রাখবেন—আমাকে বা আমার বাবাকে নিয়ে আপনারা যা বলছেন, তাতে আমার পরিচয় প্রমাণ হয় না। আপনাদের পরিচয়টাই প্রমাণ হয়। আমার বাবা যেখানেই থাকুন, আমি জানি তার বুকটা আরো চওড়া হয়ে যায় এই ভেবে যে, তার মেয়ে জীবনে কোনোদিন শর্টকাট নেয়নি। আজ তার মেয়ের বিরুদ্ধে যত কিছুই হোক, তার মেয়ে একা লড়ছে।”

দুঃসময়ে অনেক বন্ধু দূরে সরে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ শ্রীলেখা মিত্রর। তা স্মরণ করে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, অনেক বন্ধু হাত ছেড়ে দিয়েছে। সুখের সময়ের বন্ধু। যাদের কোনো এক সময়ে আপন ভেবে পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ভয় এসেছে, ভীতি এসেছে—অনেকে সরে গেছে। তাতে কী? আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি। স্থির। স্থবির পাথরের মতো নয়—মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষ হিসেবে। বাবা, তোমার টুম্পাকে টলানো এত সহজ নয়। কারণ তুমি আমাকে শুধু জীবন দাওনি, মেরুদণ্ডও দিয়েছো।”

শ্রীলেখার বাবা-মা

শ্রীলেখার বাবার নাম সন্তোষ মিত্র। ২০২১ সালে মারা যান তিনি। তার কয়েক বছর আগে মাকে হারিয়েছেন শ্রীলেখা। মা চলে যাওয়ার পর বাবাকে আগলে রাখতেন তিনি। বাবার সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল তার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT