বিনোদন ডেস্ক || গত কয়েক দশক ধরে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আসছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। সালমান শাহর ভক্ত-অনুরাগীরাও প্রকৃত অপরাধীর শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন। কয়েক দিন আগে সালমান শাহ হত্যা মামলায় ঢাকাই সিনেমার খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে বিষয়টি।
আলোচিত অভিনেতা-নির্মাতা ও সঞ্চালক শাহরিয়ার নাজিম জয় সমকালীন বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্ত করে থাকেন। সালমান শাহর হত্যা মামলার বিষয়েও একটি পোস্ট দিয়েছেন জয়।
গতকাল দেওয়া এ পোস্টে শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, “আমি সালমান শাহ হত্যার বিচার চাই। এমনভাবে বিচার করেন যেন, আর কোনো প্রশ্ন না থাকে। এমনভাবে বিচার করেন যেন, বারবার বিচার করতে না হয়। এমনভাবে বিচার করেন, যদি সে খুন হয়ে থাকে সব খুনি যেন ধরা পড়ে।”

সালমান শাহ
সালমান শাহ হত্যা মামলার সূত্র ধরে আলোচনায় রয়েছেন খলনায়ক ডন, চিত্রনায়িকা শাবনূর, সামিরা। তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করে শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, “তবে বিচারে যদি সামিরা, ডন কিংবা বর্তমানে আলোচনায় আসা শাবনূর নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে যে হেনস্তা করা হচ্ছে, তার প্রতিকার কী হবে সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাদের সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারব কি আমরা?”
সালমান শাহ হত্যার বিষয় নিয়ে অনেকের সাক্ষাৎকার করেছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এখানে বলে রাখা ভালো, সালমান শাহ হত্যা নিয়ে আমি সকলের ইন্টারভিউ করেছি এবং আমার কথায় পরিষ্কার ফুটে উঠেছিল এটি হত্যা হতেও পারে। কারণ আমি এই প্রিয় নায়ককে ভালোবাসি। ঠিক আপনারা যেভাবে বাসেন। সে কথা সত্যি কিনা আমার টকশোগুলো দেখলেই বুঝবেন।”
প্রকৃত খুনির চেহারা বের হয়ে আসুক, তা প্রত্যাশা করে শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, “আজকে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পোস্ট দিতে পারতাম। কিন্তু আমার এই পোস্ট অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। সবার কথাই ভাবতে হবে সবাই মানুষ। এর ভেতর অপরাধীকে আলাদা করতে হবে। আমি আপনাকে দেখতে পারি না, তার মানে আপনি খুনি এটা সঠিক নয়। প্রকৃত খুনির চেহারা বের হয়ে আসুক। বাকিরা শান্তি পাক।”

শাবনূর
জয়ের দেওয়া এ পোস্টে প্রায় দেড় হাজার মন্তব্য জমা পড়েছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। কেবল তাই নয়, তার ভাবনার কড়া সমালোচনাও করেছেন। আরেকটি অংশ তার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। দুই শিবির মিলে জয়ের পোস্টে তর্কযুদ্ধ চলছে।
ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। লাশ উদ্ধারের পর ধারণা করা হয়, আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পরিবারের দাবি—তাকে খুন করা হয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অর্থাৎ গত বছরের ২০ অক্টোবর নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন এই চিত্রনায়কের মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের হওয়া এই মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সালমান শাহ
আসামিদের তালিকায় রয়েছেন—সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ ফরহাদ।
গত ৯ আগস্ট, দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দলের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রয়াত অভিনেতা ও পরিচালক জহিরুল হক পরিচালিত ‘তুমি আমার’ সিনেমায় সালমান শাহ ও শাবনূর প্রথম জুটি বাঁধেন। শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহ মোট ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে একাই রাজত্ব করে গেছেন সালমান শাহ। এই চার বছরে উপহার দিয়েছেন ব্যবসাসফল ২৭টি সিনেমা।

সিনেমার দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর
সালমান শাহ অভিনীত সিনেমাগুলো হলো—‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ (১৯৯৩), ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্নেহ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’ (১৯৯৪), ‘কন্যাদান’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’ (১৯৯৫), ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ (১৯৯৬), ‘প্রেমপিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’ (১৯৯৭)।