খেলাধুলা ডেস্ক || ডারউইনে বাংলাদেশের জন্য দিনটি স্বপ্নের মতো ছিল। আর সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় কারিগর হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দিনের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন এই পেসার।
১৭ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৫৫ রান খরচ করে ৬ উইকেট হাসানের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যেকোনো সংস্করণে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এটাই প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। টেস্টে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেলেন তিনি। এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও ফাইফার পেয়েছিলেন হাসান।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইপার। চাইতেই বলটা হাসানকে দিয়ে দেন আম্পায়ার। সেটা উঁচিয়ে ধরে অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইপার পাওয়ার পর, বলটা হাসানকে দিয়ে দেন আম্পায়ার।
দিন শেষে নিজের সাফল্যের পেছনে সতীর্থদের কৃতিত্বই বেশি দেখছেন ২৬ বছর বয়সী এই পেসার। পাঁচ উইকেট পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিরুদ্ধে বোলিংয়ের কাজটা অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জিং। গত কয়েক দিনের প্রস্তুতির ব্যাপারে বলব, বেশ ভালো প্রস্তুতি ছিল। আমার মনে হয় বোলাররা খুব ভালো অনুশীলন করেছে। তাসকিন এবং ইবাদত খুবই ভালো বল করেছে।’
ছয় উইকেটের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে, এমন প্রশ্নেও শুরুতে সবগুলো উইকেটকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছেন হাসান। তবে পরে আলাদা করে বলেছেন স্টিভেন স্মিথের উইকেটটির কথা, ‘আমার মনে হয় সবগুলো উইকেটই স্পেশাল। ৫টা না হলে তো ৫ উইকেট হত না। সকাল থেকে মাঠে যে এফোর্ট দিয়ে গেছে সবাই, তাদেরকে কৃতিত্ব দিতে চাই। অবশ্যই আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি। তবে স্মিথের উইকেটটা বলব (বেশি স্পেশাল)। কারণ সে প্রেডিক্ট করতে পারছিল না যে আমি কী করব। আমার মনে হচ্ছিল যে সে কিছু একটা করতে যাবে। তো আমি বাউন্সার দিলে সে মিস করেছে।’
হাসানের বোলিং যে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদেরও মুগ্ধ করেছে, সেটিও জানা গেল তাঁর কথায়, “ম্যাচের মধ্যে ট্রাভিস হেড বলেছিল, ‘খুব ভালো বোলিং করছ’। নাথান লায়ন বললো, ‘তোমার কয়টা ফাইফার হয়েছে?’ উইকেট শুরুতে কিছুটা ময়েশ্চার ছিল পরে সফট ছিল। আমাদের প্ল্যান ছিল আমরা শৃঙ্খলা ধরে রেখে জুটি বেঁধে বল করব এবং সেটা পেরেছি।’
ভারত, পাকিস্তানের পর এবার অস্ট্রেলিয়া। তিন ফাইফারই এসেছে ক্রিকেটের শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে। কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন? হাসানের উত্তরেও অবশ্য বিনয়, ‘৩টি ফাইফারকেই সেরা অর্জন বলব। বিশ্বের সেরা ৩ দলের বিরুদ্ধে আমি ফাইফার পেয়েছি।’