1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোয়া ৪ কোটি টাকা উধাও, গ্রেপ্তার ২ - দৈনিক প্রথম ডাক
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোয়া ৪ কোটি টাকা উধাও, গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি || চট্টগ্রামের জেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) ও বহিরাগত মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এত বড় অঙ্কের অর্থ ভল্ট থেকে উধাও হওয়ার বিষয়টি কীভাবে দীর্ঘ সময় অজানা ছিল এবং এর সঙ্গে কে জড়িত, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এতে দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থের হিসাব ও ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরে যাচাই-বাছাইয়ে ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।

ঘাটতির বিষয়ে কামরুল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সহায়তায় ওই অর্থ সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন।

এজাহারে কামরুলের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, বড় অঙ্কের টাকার বান্ডিলের মধ্যে ছোট মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজিয়ে ভল্টে হিসাব মেলানো হতো। ফলে, বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম ছিল।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাফরুল্লাহ তানভীরের দেখাশোনার শর্তে অর্থ বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার পরিচালনা করা হচ্ছিল। সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি গরু আছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তানভীরকে ফাঁসানো হয়েছে, অভিযোগ পরিবারের
অভিযোগ অস্বীকার করে জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ দাবি করেছেন, তার ছেলে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারী নন। তার ছেলে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আজিম উল্লাহর দাবি, ব্যাংক থেকে তার ছেলেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ তাদের দেখানো হয়নি। তার ভাষ্য, ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে ব্যাংক থেকে তার স্ত্রী জাহেদা বেগমের মোবাইলে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে লালদীঘি শাখায় আটক রয়েছেন এবং টাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। তবে কীসের টাকা, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, রাতেই আত্মীয়দের নিয়ে ব্যাংকে গেলে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে কোতোয়ালি থানায় বিষয়টি জানানো হয়। রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আবার ব্যাংকে গেলে পুলিশও প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে পুলিশ ব্যাংকে প্রবেশ করে জাফরুল্লাহ তানভীর ও কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়।

আজিম উল্লাহর দাবি, ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তার অভিযোগ, কামরুল হোসেন পরিচয়ের সূত্রে মাঝেমধ্যে তার ছেলেকে ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ তা ফেরত নিতেন। তবে, ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা তার ছেলের কাছে দেওয়া হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, গ্রাহকদের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও বিভিন্ন তথ্যের স্ক্রিন রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভও জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

পুলিশ বলছে, অর্থের ঘাটতির প্রকৃত কারণ, অর্থ সরানোর সঙ্গে আরো কেউ জড়িত কি না এবং অভিযোগের অন্যান্য বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT