ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটে অভিযানের সময় ইজরাদারের কর্মী সারোয়ার জাহান বাচ্চু নামে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায় ইউএনওকে। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকার বালু বিক্রির পয়েন্টে ঘটনাটি ঘটে।
মারধরের শিকার সারোয়ার জাহান বাচ্চু ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযানের সময় ইজারাদারের কর্মী সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনওর নেতৃত্বে আনসার ও র্যাবের সদস্যরা বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। সেখানে ইউএনও কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে ইউএনও তাকে পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন। র্যাবের এক সদস্য সারোয়ার জাহানকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ার জাহানকে কয়েকবার আঘাত করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সারোয়ার জাহানকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।
ইজারাদারপক্ষের দাবি, সারোয়ার জাহানকে পরে র্যাবের গাড়িতে করে ত্রিশালের ধলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে স্বজন ও ইজারাদারপক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ জানান, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তাঁরা বালুমহালটি ইজারা নিয়েছেন। ইজারার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। অভিযানের সময় কাগজপত্র দেখানোর জন্য সময় চাওয়ার পরই তার কর্মী সারোয়ার জাহানকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের কর্মী অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এরপরই তাকে মারধর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে জানতে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “আমি ভিডিওটি দেখেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”