1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
অরক্ষিত বেলতলী বধ্যভূমি, চলে মাদকের আড্ডা - দৈনিক প্রথম ডাক
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো বাড়েনি: শামা ওবায়েদ সম্পত্তিতে সমঅধিকার ছাড়া নারীর পূর্ণ সমতা সম্ভব নয়: মহিলা পরিষদ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান, সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নিপুন রায়কে ফোনে কথা বলতে দেখে স্পিকার, ‘লবিতে গিয়ে কথা শেষ করে আসুন’ এনআইডি অনিয়মে ইসির ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত তামিমকে ছাড়িয়ে সবার উপরে হৃদয় যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ২, আহত ৩ পুলিশ কর্মকর্তা

অরক্ষিত বেলতলী বধ্যভূমি, চলে মাদকের আড্ডা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২২৬ বার দেখা হয়েছে
বেলতলী বধ্যভূমি

কুমিল্লা প্রতিনিধি || মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশনের বেলতলী বধ্যভূমি স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। রাত নামলেই সেখানে বসছে মাদকসেবীদের আড্ডা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, এটি শহীদদের অবমাননা। অবিলম্বে বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লাকসাম রেলওয়ে জংশন ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক নিরীহ বাঙালি নারী-পুরুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনে করে এখানে আনা হতো। নির্মম নির্যাতনের পর তাদের হত্যা করে বেলতলী এলাকায় গণকবর দিত পাকিস্তানি বাহিনী।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনের দক্ষিণ পাশে প্রায় ২ হাজার ফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বধ্যভূমিতে মাটি খুঁড়লে আজও বেরিয়ে আসে মানুষের হাড়গোড় ও কঙ্কাল। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, ১৯৭১ সালে পাক সেনারা এখানে প্রায় ১০ হাজার বাঙালি নারী-পুরুষকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়।

১৯৯৯ সালে ঢাকার একদল সাংবাদিকের অনুরোধে ডোম শ্রীধাম দাস বেলতলী বধ্যভূমিতে খনন কাজ চালিয়ে মাটিচাপা দেওয়া মানুষের কয়েকটি কঙ্কাল, মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করেন। সেসময় উদ্ধারকৃত কিছু নিদর্শন বর্তমানে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

লাকসামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের বলেন, ‍“১৯৭১ সালে নিজের চোখে দেখেছি, কীভাবে ট্রেন থেকে নামিয়ে মানুষকে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। আজ সেই জায়গায় কোনো সাইনবোর্ড নেই, কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই—এটা আমাদের জন্য লজ্জার। নতুন প্রজন্ম জানবেই বা কীভাবে আমাদের ইতিহাস?”

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান বলেন, “বেলতলী বধ্যভূমিতে মাটি খুঁড়লেই মানুষের হাড়গোড় বেরিয়ে আসে। এই জায়গা অরক্ষিত থাকায় মাদকসেবী আর অপরাধীরা আড্ডা দেয়। আমরা বেঁচে থাকতে থাকতে চাই, রাষ্ট্র যেন এই বধ্যভূমিকে সংরক্ষণ করে, শহীদদের সম্মান দেয়।”

লাকসাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জরিপ অনুযায়ী দেশের চিহ্নিত ১০টি বধ্যভূমির মধ্যে লাকসাম বেলতলী একটি। অথচ আজও এটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে, যা আমাদের জন্য লজ্জার।”

তিনি আরো বলেন, “বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের অভাবে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে, যা শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননার শামিল।”

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT