সিলেট প্রতিনিধি || সিলেটে একটি চায়ের দোকানে বসে ধূমপান ও আড্ডার ফাঁকে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার সময় এক প্রভাষককে আটক করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে ওই প্রভাষককে আটকের পাশাপাশি প্রায় এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।
অভিযুক্ত প্রভাষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজ কর্মরত এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রভাষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা আরো দুই বন্ধু উত্তরপত্র দেখছিলেন। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন।
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে সিগারেট ও চা পানের ফাঁকে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন। লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণী পরীক্ষার উত্তরপত্র কীভাবে নিয়োজিত পরীক্ষকের বাইরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন এ বিষয়ে কৈফিয়ত চাইলে প্রভাষক ইকবাল বলেন, তাড়াহুড়ো থাকায় বন্ধুদের নিয়ে খাতা না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।
এ সময় উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার ব্যাচমেট ও বন্ধু, তাই শুধু সঙ্গে ছিলাম।
এ ঘটনার পরপরই সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত প্রভাষককে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় যান।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত প্রভাষককে বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।