কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি || কিশোরগঞ্জে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টায় তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে বড় ধরণের ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এই ছিদ্র দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে বের হচ্ছে গ্যাস। এ কারণে লিকেজ মেরামতে তিনদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ। ফলে রান্না থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সিএনজিচালিত পরিবহন চালকরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে পাইপলাইন মেরামতের জন্য তিনদিনের জন্য জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো মানুষ। রান্নার জন্য কেউ এলপিজি সিলিন্ডার, কেউ বৈদ্যুতিক চুলা, আবার কেউ কাঠের চুলার ওপর নির্ভর করছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও উৎপাদন ও ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সংকটে ফিলিং স্টেশনেও দেখা দিয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।
জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার গৃহিনী সুপ্রিয়া দাস জানান, সকাল থেকেই পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুতের চাপ থাকে। সকালে নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার তৈরি করতে গ্যাসের বিকল্প কোনো পদ্ধতি নেই। এখন হঠাৎ করেই গ্যাস সরাবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন খাবার রান্নার কাজে অনেক সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখন বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলার সরঞ্জাম কিনে আনতে হয়েছে।”
সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক ও পিকআপ চালকরাও পড়েছেন বিপাকে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে লাইনের পর লাইন দাঁড়িয়ে থেকেও তার গ্যাস পাননি। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের রুটি-রোজির অংশ এই গাড়িটি গ্যাসের মাধ্যমেই চলে। গত কয়েকদিন গ্যাস পাওয়া গেছে কম, কিন্তু আজ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হওয়ায় ভীষণ ভোগিান্তিতে পরেছি। এখন কোথায় গ্যাস পাবো, আর কিভাবেই পরিবার নিয়ে চলব বুঝতে পারছি না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করা হলে, আমাদের রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা শুরু করতে হবে।”
তিতাস গ্যাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্যবস্থাপন (অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, গ্যাস লাইন মেরামতের কাজ চলছে। লাইনের ছিদ্রটি বড় হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিনের জন্য কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। প্রায় ২০দিন ধরে মেরামত কাজ চলছে, আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রায়ই বৃষ্টি হচ্ছে, এতে মেরামত কাজে বিঘ্ন হচ্ছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাইপলাইন মেরামতের কাজ শেষ করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারব।”
এদিকে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে গড়ে তোলা চুনাপাথর কারখানায় অভিযান চালিয়েছে কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা জানান, অভিযানে কারখানার তিনটি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং মজুত থাকা চুনাপাথর জব্দ করা হয়েছে। কারখানাটি পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।