1. admin@prothomdak.com : admin :
  2. contentmgr4328@yahoo.com : contentmgr43 :
  3. contentmgr7168@outlook.com : contentmgr71 :
  4. editor@prothomdak.com : Golam Saroar : Golam Saroar
গর্তে ভরা সড়ক ভোগান্তির আরেক নাম - দৈনিক প্রথম ডাক
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো বাড়েনি: শামা ওবায়েদ সম্পত্তিতে সমঅধিকার ছাড়া নারীর পূর্ণ সমতা সম্ভব নয়: মহিলা পরিষদ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান, সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নিপুন রায়কে ফোনে কথা বলতে দেখে স্পিকার, ‘লবিতে গিয়ে কথা শেষ করে আসুন’ এনআইডি অনিয়মে ইসির ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত তামিমকে ছাড়িয়ে সবার উপরে হৃদয় যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ২, আহত ৩ পুলিশ কর্মকর্তা

গর্তে ভরা সড়ক ভোগান্তির আরেক নাম

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯৬ বার দেখা হয়েছে
গর্ত থেকে বাঁচতে সড়কের কিনারা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন এক অটোরিকশাচালক

গাজীপুর প্রতিনিধি || সড়কের একটি অংশ ভাঙাচোরা ও ক্ষতবিক্ষত। পিচ-ঢালাই উঠে সড়কের বুকে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় গর্ত। নিরাপদে গাড়ি চালাতে চালককে যেমন সতর্ক থাকতে হয়, ঠিক তেমনি ঝাঁকুনির মধ্যে থাকেন যাত্রীরা। গাড়ি উল্টে যাওয়ার আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের।

গাজীপুরের কাপাসিয়া–কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের চাকৈল ব্রিজ থেকে দোলান বাজার পর্যন্ত সড়কের চিত্র এটি। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের এই পথজুড়ে প্রায় ৩৫টি বড় গর্ত যেন প্রতিদিন হাজারো মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়। বিশেষ করে বর্ষার পানিতে গর্ত ডুবে থাকায় ভোগান্তি আরো বাড়ে।

কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলার মানুষের জন্য এই আঞ্চলিক সড়কটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ অসংখ্য যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে সড়কটির কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বর্ষার বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানিতে ডুবে থাকায় গর্ত কোথায় রয়েছে অনেক সময় তা বুঝতে পারেন না চালকরা। ফলে প্রায়ই অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় ছোট যানবাহনের চালকদের বাড়তি ঝুঁকি নিয়েই পথ পার হতে হয়।

চাঁদপুর বাজারের ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, “তিন বছর ধরে রাস্তাটির কোনো সংস্কার হয়নি। ধুলো, কাদা আর গর্তের কারণে ব্যবসা পরিচালনা ও চলাচলে দুই দিক থেকেই আমরা ভোগান্তিতে আছি। ক্রেতারাও অনেক সময় বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন।”

সড়কে থাকা গর্ত স্থানীয়দের কাছে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

প্রতিদিন এই সড়কে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, “চাঁদপুর বাজার থেকে দুলান বাজার পর্যন্ত অন্তত ২৫টি স্থানে বড় বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় রাস্তার অবস্থা বোঝা যায় না। প্রতিদিনই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে নিরাপদে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

একই দুর্ভোগের কথা জানান সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সোলাইমান। তার ভাষ্য, “ভাঙা সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির সাসপেনশন, টায়ার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আয় কমে যাচ্ছে, আবার যাতায়াতে অতিরিক্ত সময়ও লাগছে।”

যাত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, “বৃষ্টি হলে কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত বোঝা যায় না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। গর্তের নোংরা পানি ছিটকে জামাকাপড় নষ্ট হয়।”

চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা বাছির উদ্দিন বলেন, “ভাঙা রাস্তার কারণে বাজারে যাওয়া-আসা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আধা ঘণ্টার পথ যেতে এখন প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।”

এই পথের দুর্ভোগ শুধু সাধারণ যাত্রীদের নয়, শিক্ষা কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলছে। কাপাসিয়া সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “আমি ফুলবাড়িয়া থেকে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করি। রাস্তার কারণে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে। অনেক সময় মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান মোড়ল বলেন, “কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন। চাঁদপুর বাজারের চার রাস্তার মোড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বাজার থেকে নিয়মিত রাজস্ব পেলেও বাজার ও সড়কের উন্নয়ন হচ্ছে না। দ্রুত সড়ক সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রায়ই যাত্রীরা অটোরিকশা থেকে পড়ে আহত হন।”

কাপাসিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, “সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

Categories

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed By: SISA IT