পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি || দেশের সবেচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় পটুয়াখালীতে। দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আরো একটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানাধীন রয়েছে। অথচ এই জেলাতেই হচ্ছে ঘন ঘন লোডশেডিং। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কল কারখানার মালিক, কুয়াকাটায় আগত পর্যটক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নে অবস্থিত পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিনিয়ত ১ হাজার ৩২০ মেগওয়াট এবং পটুয়াখালী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হয় ১ হাজার মিগাওয়াট বিদ্যুৎ। এছাড়া একই এলাকায় নির্মানাধীন রয়েছে আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের আরো একটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তবে পটুয়াখালী ও বরগুনার একাংশের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহের জন্য পল্লী বিদ্যুতের দিনে মাত্র ৮৫ মেগাওয়াট এবং রাতে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এছাড়া ওজোপাডিকোর প্রয়োজন হয় মাত্র ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তারপরও জেলা শহরসহ উপজেলা শহরগুলোতে হচ্ছে ঘন ঘন লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পালাক্রমে যাওয়া আসা করে বিদ্যুৎ। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটারও একই অবস্থা। এতে পর্যটকদের চোখে মুখে লক্ষ্য করা গেছে বিরক্তির ছাপ। বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কল-কারখানার মালিকরা। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কারণে বসতভিটা হারোনার পরও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আমরা জমি দিয়েছি, বসতঘর হারিয়েছি। তাপরও আমরা ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। দিনে-রাতে মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। আমাদের জমি দিয়ে কোন লাভ হলো না “
কলাপাড়ার এতিমখানা এলাকার বাসিন্দা রাসেল কবির বলেন, “নামাজের সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতে এবং দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।”
খুলনার পাইপগাছা থেকে কুয়াকাটায় আসা পর্যটক মাইনউদ্দীন বলেন, “একটু স্বস্তির জন্য কুয়াকাটায় এসেছি। কিন্তু বিদ্যুৎ নিয়ে বড় অস্বস্তিতে পড়েছি। একটি পর্যটন কেন্দ্রেও যদি ৫ থেকে ৭ বার করে বিদ্যুৎ যায় এবং ঘন্টাব্যাপী লোডশেডিং থাকে তাহলে আর কোথায় গিয়ে স্বস্তি মিলবে?”
কুয়াকাটার হোটের ফ্রেন্ডস পার্কের ম্যানেজার পারভেজ বলেন, “অনেকবার লোডশেডিং দেয়। কত সময় আর জেনারেটর চালানো যায়? অনবরত জেনারেটর চালানোর কারণে আমরা লোকাসানে পড়েছি। পর্যটকরাও স্বস্তি পাচ্ছে না। আমরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহের দাবি জানাচ্ছি।”
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, “এই এলাকার দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এটা ঠিক। কিন্তু এ বিদ্যুৎ তো আসলে আমরা সরাসরি পাই না। পটুয়াখালীর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। আমরা চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ করা যাচ্ছে না।”