পটুয়াখালী প্রতিনিধি || নদী বেষ্টিত পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। ৩৪৩ বর্গকিলোমিটারের এ উপজেলায় নেই কোনো হাসপাতাল। চিকিৎসার একমাত্র ভরসা হাতুড়ে ডাক্তার। জটিল রোগে আক্রান্ত হলে এখানকার বাসিন্দাদের নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হচ্ছে পাশ্ববর্তী কলাপাড়া, গলাচিপা কিংবা জেলা সদরে।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আধুনিক চিকিৎসা সেবার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ। এখানে সরকারিভাবে একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা প্রায় দুই বছর ধরে রয়েছে বন্ধ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে পাঁচ একর যায়গার ওপর চারতলা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পৃথক দুটি লটে প্রায় ২১ কোটি টাকার কাজ শুরু করে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এক বছর মেয়াদি প্রথম লটের ৩০ ভাগ ও দ্বিতীয় লটের ৫৭ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর সরকার পরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালটির। দীর্ঘ দুই বছরেও নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় ভবনটি এখন গরু-ছাগলের বিচরণভূমি ও মাদক কারবারিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলার ছোট বাইজা ইউনিয়নের বাসিন্দা রহমান সিকদার বলেন, “হাসপাতাল না থাকায় আমাদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। জ্বর কিংবা পেট ব্যথা হলে কলাপাড়া কিংবা গলাচিপা যেতে হয়। এখানে যারা ফার্মেসির ডাক্তার রয়েছেন তারা একেবারে অনভিজ্ঞ।”

নদী অতিক্রম করে দূরের উপজেলায় পৌঁছাতে হয় রাঙ্গাবালীর বাসিন্দাদের
গাইয়াপাড়া গ্রামের হাসান গাজী বলেন, “হাসপাতাল নির্মাণের অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার পর দুই বছর ধরে ভবনটি পরে আছে। এটি গরু-ছাগলের চারণভূমি এবং মাদক সেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ি শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে। তাদের সুচিকিৎসা দিতে নদী পাড়ি দিয়ে নিয়ে যেতে হয় যা অনেক সময়ের ব্যাপার। অনেক সময় আমাদের কলাপাড়া কিংবা গলাচিপা পৌঁছাতে পৌঁছাতে রোগীর মৃত্যু হয়। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছি।”

নির্মাণাধীন হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ
পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতাল নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে নতুন করে পৃথক দুটি লটে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আমর ২০২৭ সাল নাগাদ হাসপাতলটির নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।”
পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, “হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু করতে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”