সিলেট প্রতিনিধি || সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় সিলেট নগরী অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াও ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও সিসিক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সিসিকের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, এসটিএস ও বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় সিলেট অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সিসিক যেভাবে কাজ করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, খাল পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সিসিক অন্য অনেক সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।’’ এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরামর্শক মো. শাহীন আহমেদ খান, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সিসিকের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেটে স্থাপিত হচ্ছে দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যান্ট চালু হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ এবং নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে গৃহস্থালি বর্জ্য, স্যুয়ারেজ স্লাজ ও কৃষিজ বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত অপসারণ করা হয়। এর ফলে বর্জ্য উচ্চ তাপমাত্রাসম্পন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উপযোগী হয়ে ওঠে, যা বাংলাদেশের মতো উচ্চ আর্দ্রতাসমৃদ্ধ বর্জ্যের জন্য কার্যকর একটি প্রযুক্তি বলে জানান কর্মকর্তারা।