ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে একই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নামাজের ইমামতি ছাড়াও শিশুদের কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় পরামর্শ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় নিরলস ভূমিকা- সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন পুরো গ্রামের আস্থার প্রতীক। দীর্ঘ ৫৬ বছরের নিষ্ঠাবান সেবার স্বীকৃতি হিসেবে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ির জামে মসজিদের প্রবীণ ইমাম হাফেজ আব্দুল কদ্দুসকে পবিত্র উমরাহ পালনের জন্য পাঠিয়েছেন এলাকাবাসী।
গত ৫ আগস্ট স্থানীয় মুসল্লি, প্রবাসী ও গ্রামের শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগে হাফেজ আব্দুল কদ্দুসকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। বিদায়ের সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। মুসল্লি ও গ্রামবাসী সেখানে ভিড় করেন। অনেকে তার জন্য দোয়া করেন এবং সুস্থভাবে উমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মসজিদের মুসুল্লি একে এম ফজলুল হক জানান, তরুণ বয়সে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে হাফেজ আব্দুল কদ্দুস নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি শুধু নামাজ পরিচালনাই করেননি; গ্রামের শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ চর্চা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
মুসল্লিদের ভাষ্য, পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে হাফেজ আব্দুল কদ্দুস কখনো দায়িত্বের প্রতি অবহেলা করেননি। অসুস্থতা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও যথাসম্ভব মসজিদে উপস্থিত থেকে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিনয়, ধর্মীয় জ্ঞান ও মানবিক আচরণের কারণে তিনি গ্রামের মানুষের কাছে শ্রদ্ধাভাজন।
ইমামকে উমরাহে পাঠানোর অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ লালু ও আশরাফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা বলেন, হাফেজ আব্দুল কদ্দুস জীবনের ৫৬ বছর আল্লাহর ঘরে মানুষের সেবায় কাটিয়েছেন। তার এই ত্যাগ ও অবদানের প্রতি সম্মান জানাতেই সবাই মিলে তাকে উমরাহে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি সবার পক্ষ থেকে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার ছোট্ট উপহার।
হাফেজ আব্দুল কদ্দুস এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করছি। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন। পবিত্র ভূমিতে গিয়ে দেশ, জাতি ও আপনাদের সবার জন্য দোয়া করব।’’
ইমাম আব্দুল কদ্দুসের স্বজনরা জানান, একজন ধর্মীয় নেতার প্রতি মানুষের এমন সম্মান ও ভালোবাসা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাদের বিশ্বাস, ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার এই সংস্কৃতি অন্যদেরও মানবিক উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ করবে।