সাতক্ষীরা প্রতিনিধি || কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার চারটি মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
সোমবার (আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের আদালতে এ গ্রেপ্তার দেখানো ও জামিন শুনানীর কার্যক্রম চলে।
নজরুল ইসলাম (৭৩) সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা।
আদালত চত্বরে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ওপেন হার্ট সার্জারি করানো হয় এবং তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই নজরুল ইসলামকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ঢাকার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পর দিন আদালতে পাঠায়। পরবর্তীতে তাকে সাতক্ষীরা থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য সাতক্ষীরায় আনা হয়।
২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুরাতন সাতক্ষীরার আবির হাসানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীর চরে ফেলে রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলা, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ ধুলিহরের অহিদ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা, ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর গভীর রাতে সাতক্ষীরার আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শিকড়ি কুলবাগানে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা, ২০১৪ সালের ১৩ জুন গভীর রাতে সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ইসলাম মোড়লকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাধবকাটিতে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা এবং ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল চলাকালে ঝাউডাঙা বাজারে গোবিন্দকাটি গ্রামের ভ্যানচালক হাফিজুর রহমানকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত বুধবার (৫ আগস্ট) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আবেদন জানান।
গত বৃহষ্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার কারাগার থেকে নজরুল ইসলামকে সাতক্ষীরা কারাগারে আনা হয়। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে সাতক্ষীরা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হলে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল তাকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন। একইসঙ্গে তার আইনজীবীরা আদালতে চারটি মামলায় জামিন আবেদন জানালে শুনানি শেষে সব কটি মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আদালতের পুলিশ উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, আসামি নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর দুপুর ১টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।