কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || দারিদ্র্যের কারণে থমকে যাওয়া জোড়া লাগা যমজ দুই শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চিকিৎসার সব খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বেশকিছু গণমাধ্যমে তাদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এরপর শিশু দুটির চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসানকে ফোন করে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, শিশু দুটির অস্ত্রোপচার, পরবর্তী চিকিৎসা ও ফলোআপসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বহন করবে। একই সঙ্গে কালবিলম্ব না করে শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।
জয়নব ও উম্মে কুলসুম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের দোকান কর্মচারী নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির সন্তান। গত ৪ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জন্ম হয়। জন্মের পর চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব। তবে এজন্য একাধিক ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিন মাস পর শিশু দুটিকে আবার ঢাকায় নেওয়ার কথা থাকলেও চরম আর্থিক সংকটে তা সম্ভব হচ্ছিল না। নাহিদ হাসানের মাসিক আয় মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এ আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই শিশুর দুধ ও চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তিনি ঋণের বোঝায় পড়েন।
নাহিদ হাসান বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় বিকেলে আমাকে ফোন করে বলেছেন, শিশুদের চিকিৎসার সব দায়িত্ব সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিচ্ছে। দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন। এই সহায়তায় আমরা নতুন জীবন খুঁজে পেলাম। আজ সোমবারই আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছি।”
সরকারের ব্যবস্থাপনায় সময়মতো অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা পেলে জয়নব ও উম্মে কুলসুম সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে এমন আশায় এখন নতুন করে বুক বাঁধছে পরিবারটি।